বুধবার, ৩রা কার্তিক, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ : ১৮ই অক্টোবর, ২০১৭ ইং

অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা স্রোতে প্রভাবিত সীমান্তবর্তী অঞ্চল!

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ১

খাঁন মাহমুদ আইউব,(কক্সবাজার টেকনাফ) প্রতিনিধি

মিয়ানমার আরাকান প্রদেশে চলমান সহিংসতার ফলে সৃষ্ট উগ্র সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় রোহিঙ্গা স্রোতে প্রভাবিত হচ্ছে বাংলাদেশ।হুমকিতে পতিত হচ্ছে সার্বভৌমত্ব বিনষ্ট হচ্ছে শান্তি শৃঙ্খলার।উদার মানবতাবোধ থেকে আশ্রয় নিয়ে পতিতাবৃত্তি সহ সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে।উন্মোচিত হচ্ছে রোহিঙ্গাদের স্বরূপ, বিপদগামী পথে হাটছে ষড়যন্ত্রের পুর্বাভাস।এদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর দাবী সীমান্তবর্তী অঞ্চলের বসবাসরত স্থানীয়দের।

 

 

গেলো ০৯ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের আরাকান প্রদেশে পরিকল্পিত সেনা ঘাটিতে হামলা চালিয়ে অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট-পাটের ঘটনা পরবর্তি এই সব অস্ত্র ও গোলাবারুদ  উদ্ধার এবং সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের ঘটনায় চিরুনী অভিযান শুরু করেছিলো মিয়ানমারের বিজিপি ও সেনা যৌথ বাহিনী।

 

 

আরাকানীদের উপর সুত্র মতে, নির্যাতন,লুটপাট,ধর্ষন এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে ৪ মাস গত হলেও, তা নিয়ে অদ্যবধি সমাধানের সঠিক কোন পথ  বাতলাতে পারেনি সে দেশের সরকার কিংবা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। বিবিসি,আল জাজিরা, সিএনএন সহ বেশ কিছু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম গুলোর অতি রঞ্জিত সংবাদ প্রকাশ কিছুটা বাংলাদেশ কে বেকায়দায় ফেলেছে।

 

 

বাদ পড়েনি স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম গুলোএই সব সংবাদ মাধ্যম গুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নাটকীয় নিরবতার রহস্য কোড না করে বাংলাদেশ সীমান্ত বন্ধ করে দেয়ার কারনে প্রতিদিন শত শত রোহিঙ্গা লোকজনের প্রাণ সংহার হচ্ছে এবং প্রাণ ভয়ে নদীর পাড়ে ও নৌকায় শত শত লোকজন ভাসছে বলে মিথ্যে সংবাদ প্রকাশ করার পিছনে  সংবাদ মাধ্যম গুলোর কোন গোপন এজেন্ডা আছে কিনা তা নিয়ে স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মাঝে মিশ্র পতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

 

 

এই সব সংবাদ মাধ্যম গুলো স্থানীয় শংকর বাঙ্গালী (ক্রস নেশন) নব্য রিপোর্টারদের সাথে নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করার খবর পাওয়া গেছে। উক্ত শংকর নব্য রিপোর্টার গুলোর পারিবারিক ইতিহাসের সাথে রোহিঙ্গাদের কাদার তিব্র গন্ধ পাওয়া যায়। কক্সবাজার টেকনাফ অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা লক্ষাধিক রোহিঙ্গা জনগোষ্টি একটি আলাদা গাইড লাইনের উপর চলে এবং তাদের ফাদাররা এই অঞ্চলে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। সাব কন্ট্রোলার হিসেবে সক্রিয় রয়েছে এই জনপদের অন্তত শ’খানেক কওমী মাদ্রাসার হাজার খানেক রোহিঙ্গা আলেম,ছাত্র সহ ব্যবসায়ীরা। আবার অনেক মাদ্রাসা আছে তাদের ছাত্র-শিক্ষক একাধারে রোহিঙ্গা সেটআপ,এই সব মাদ্রাসা গুলোর অভ্যান্তরে কি হয় তা বাহিরের কেউ জানার উপায় নেই।

 

 



আশ্রয় কে পশ্রয় ভেবে রাষ্টের উপর কর্তৃত্ব পরবর্তি দখলের চক্রান্তঃ



বিভিন্ন উপায়ে মজলুম ও ধর্মের দোহাই দিয়ে সহানুভূতি পুঁজি করে ভোটার আইডি কার্ড সংগ্রহ করে ভিসা নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ গুলোতে গমন করে। এসব কাজে সহায়তা করে এই জনপদের কিছু রোহিঙ্গা বান্ধব জনপ্রতিনিধি।মাদ্রাসা গুলোর এতিম খানার জন্য তহবিল সংগ্রহের নামে মধ্যপ্রাচ্যে আন্তর্জাতিক জঙ্গী সংগঠনের নেতাদের সাথে আতাত করে উগ্রপন্থী কাজের দেশনা অনুযায়ী এদেশ এসে কাজ করে থাকে।

 

 

যার প্রমান হিসেবে চীনা নাগরীকের সাথে টেকনাফ আনাসবিন মালিক মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা শফিউল্লাহ ও টেকনাফ শামলাপুর এলাকা থেকে সৌদি নাগরিকসহ কক্সবাজার ইসলামীক সেন্টার নামক জেলার জঙ্গী তৈরীর প্রথম সারির কারখানার মেশিনম্যান ও বার্মা বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন (আরএসও)র প্রথম সারির নেতা বর্মী নাগরিক মৃত হাফেজ জিয়াউল হকের পুত্র মাওলানা সালাহুল আরাকানী এবং টাঙ্গাইল জেলার বাশাইল থানার মৃত হালিমের পুত্র মোঃ ইব্রাহীম এবং বাহার ছড়াও ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের সিঃ সভাপতি মৌলানা ছৈয়দ করিম সহ ৩ জনকে ২ বিজিবির উপ-অধিনায়ক আবু রাসেল সিদ্দিকী আটক করে ছিল।

 

 

একই এলাকার টেকনাফ উপজেলা বাইসচেয়ারম্যান মোল্লা রফিক ও বাহার ছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোল্লা আজিজ দুই সহোদর কে পলাতক আসামী করা হয়।মোল্লা আজিজের বিরুদ্ধে আদম পাচারের স্পষ্ট  অভিযোগ রয়েছে। মোঃ ইব্রাহিম ঢাকা মতিঝিল অবস্থিত সৌদি ভিত্তিক আহলে হাদিসের কর্মকর্তা বলে জানা গেছে।।

 

 

কালো টাকার জোয়ারে ঊচ্চ আদালত থেকে আইনের ফাক- ফোকর গলে হাই কোর্ট আপিল ডিভিশন, ১৫ নং বেঞ্চ বিচারপতি আসাদুজ্জামান এবং জাফরের আদালত থেকে ২৮ শে আগষ্ট ২০১৬ ইং জামিনে বেড়িয়ে আসে আবার জঙ্গী তৎপরতা শুরু করে।আরেক দফা ২০১৩ সালে জঙ্গী তৎপরতার দ্বায়ে  সালাহুলকে আটক করা হয়েছিলো। মেশিন্ম্যান জঙ্গী সালাহুল কে ইমাম মুসলিম  ইসলামিক সেন্টার নামে জঙ্গি ইন্ডাস্ট্রীর বিশাল কায়ার ইরামত নির্মানের উৎস সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিবেদকে স্থানীয়দের অনুদান নির্ভর বলে আর কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

 

 

স্থানীয় কারা এই অর্থের যোগান দিয়ে থাকে তাদের খোঁজে চিহ্নিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তবে সৌদি থেকে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা আনার কথা স্বীকার করেছেন তার দলের এক সদস্য।সালাহুলের নিয়ন্ত্রনাধীন জেলার বিভিন্ন জায়গায় বেশ কিছু মাদ্রাসা পরিচালিত হয়।তার মধ্যে টেকনাফ পৌর সভার কায়ুকখালী পাড়া গ্রামে আয়েশা ছিদ্দিকা বালিকা মাদ্রাসা রয়েছে। উক্ত মাদ্রাসায় তাকে সপ্তাহ পরপর যাতায়াত করতে দেখা গেছে।জঙ্গী ডন সালাহুল সরকারের নজরে আসার পর থেকে তার ছেলে “সাদ” পিতা কারাগারে থাকা কালীন যাবতীয় কাজ পরিচালনা করেছেন বলে জানা গেছে।

 

 

বিগত ২ সপ্তাহ আগে একজন অনুসন্ধানী প্রতিবেদক তার সাথে জঙ্গী তৎপরতা প্রসঙ্গে আলাপ কালে তাকে গায়েব করে ফেলার হুমকি দিয়ে ছিলেন এবং তার ক্ষমতার বলয় সম্পর্কে অবগত কিনা প্রশ্ন চূড়েন। এই সব বিষয় বিশ্লেষন করলে বুঝা যায় রোহিঙ্গাদের মানবতার দোহায় দিয়ে অনুপ্রবেশের পিছনে কি চক্রান্ত লুকিয়ে আছে এবং তাদের অদৃশ্য শক্তি এই সব মেশিনম্যান বলে অনেকটা নিশ্চিত হওয়া যায়।

 

 

সম্প্রতি আরাকান সংঘাতের পরবর্তী টেকনাফ মাদ্রাসা আনাস বিন মালিক মাদ্রাসার নায়েবে মুহতামিম মৌলানা সাইফুল্লাহ হুন্ডির মাধ্যমে মিয়ানমারে অর্থ পাঠানোর খবর পাওয়া গেছে স্থানীয় লোক জনের কাছ থেকে।তাকে সালাহুলে কাছে যাতায়াত করতে দেখা গেছে অনেক সময়।মাদ্রাসার চাঁদার নামে গোদারবিল এলাকায় পাকা দালান ছেলেকে সৌদিতে প্রতিষ্টিত করার উৎস কি খোজ নিলে বেরিয়ে আসবে লাইন কোথায়

 

 

এ বিষয়ে তার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি তা অস্বীকার করেন। এই সব মোল্লাদের বিগত ৫ পাঁচ বছর অতীতের হিসেব মিলাতে গেলে ভাগফল বিভাজ্য থেকে যায়।বিরাজমান সংঘাতে অনুপ্রবেশ রোধ করা সম্ভব না হওয়ার পেছনে মূল অন্তরায় এই সব জঙ্গী ডনদের সিরিজ।যে কোন ভাবেই বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারলে  অর্থনৈতিক ও আবাসন সুবিধাসহ বিভিন্ন ভাবে পশ্রয় পাচ্ছে কিছু ঘাপটিমেরে থাকা রোহিঙ্গা নেতা ও মোল্লাসহ এনজিও সংস্থার কাছ থেকে।

 

 

এদের নেটওয়ার্ক এতোটা বিস্তৃত যে নেতা,আমলা,অনেক সময় মন্ত্রী পরিষদ পর্যন্ত। অতীতের স্বরূপ বিশ্লেষন করলে দেখা যায়,এই অঞ্চলে যেসব নেতা বা ব্যক্তি রোহিঙ্গাদের আশ্রয় পশ্রয় দিয়েছেন,তারাই রোহিঙ্গাদের হাতে মৃত্যু বরন করেছেন বা আক্রান্ত হয়েছেন। টেকনাফ পৌর এলাকার রোহিঙ্গা নাগরিক হোন্ডি জলিল ওরফে জইল্যা, রোহিঙ্গা হুন্ডি আনাছ, চট্টগ্রাম এলাকায় অবস্থানরত রোহিঙ্গা নাগরিক মৌলানা আব্দু রহমান (শাহপরীর দ্বীপ),মৌলানা কলিম আরাকানী (কক্সবাজার) সহ দেশের অভ্যান্তরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা একটি গ্রুপ।

 

 

কক্সবাজারের বিসিক এলাকার মৌলানা কলিম উল্লাহর নেতৃত্বে বেশ কিছু নগদ অর্থ, কাপড়, খাদ্য সামগ্রী প্রদানের খবর পাওয়া গেছে বিশ্বস্থ সূত্রে।কিন্তু এই কলিমূল্লাহ এলাকার নারীদের প্রতি সপ্তাহে ধর্মীয় দেশনা শুনানোর নামে মগজ দোলাই দেয়ার বিষয় টি বুঝতে পেরে এলাকার লোকজনের চাপের মুখে তা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে বলে পার্শ্ববর্তি এক মহিলা জানান।

 

 

বিজিবি সর্বাত্বক চেষ্টা চালিয়েও অনুপ্রবেশ রোধে ব্যর্থ হচ্ছে। কারন অনুসন্ধানে দেখা গেছে,সীমান্ত সংলগ্ন স্থানীয়রা মোটা অংকের বিনিময়ে অন্ধকারে চোরাই পথে অবৈধ ঘাট দিয়ে অনুপ্রবেশ ঘটাচ্ছে।অবৈধ ঘাট গুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে হ্নীলা চৌধুরী পাড়া ঝামেলা ঘাট। এই ঘাট নিয়ন্ত্রনে রয়েছে একজন মেম্বার।

 

 

পাড়ার চিহ্নিত মক্ষিরানী পতিতা চেন চেন (৪০) নামের রাখাইন মহিলাকে দিয়ে বছরের পর বছর মাদক আমদানী,নারী সর্বরাহ সহ অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রন করে আসছে বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রাখাইন যুবক।উক্ত মেম্বারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ডাকাতি সন্ত্রাসীসহ বিভিন্ন মামলার রেকর্ড রয়েছে।

 

 

এই সব অপরাধের বিরুদ্ধে রাখাইন সোসাইটির নেতা একজন সরকারী সিনিয়র কর্মকর্তা মিঃ মংতিংঅং উক্ত মেম্বার রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে ডাকাতি,চাদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধের কথা জানালেন এবং ওয়েল ফেয়ার এসোসিয়েশনের অফিসিয়াল প্যাডে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে অভিযোগ করার কথাও নিশ্চিত করেছেন তিনি।অপরাধ করে পার পেয়ে যাওয়ার কারন হিসেবে জানতে চাইলে,কেউ তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে তাকে মেরে ফেলার ভয় ভিতি দেখিয়ে জিম্মি করে রাখে।সম্প্রতি ওই ঘাট থেকে কয়েক দফা বর্মী লোক জন মিয়ানমারে গমনের সংবাদ পাওয়া গেছে।রাখাইন প্রতিনিধি আদম পাচার কারী সিং  অং(৪৫)উরফে চি,চি তার  অপরাধ জগতের রাইট হ্যান্ড বলে স্থানীয় ভাবে বহুল প্রচার রয়েছে

 



অনুপ্রবেশের নেপত্যে যে সব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ইনডিরেক্ট সন্দেহ জনকঃ 



আন্তর্জাতিক একটি এনজিও সংস্থা লোকালয়ে স্থানীয়দের মাঝে কাজ করার নামে সংরক্ষিত পাহাড়ে  টেকনাফ ইউএনও বাস ভবনের ৫০ ফূট অদূরে কোন অনুমতি ছাড়া বিভিন্ন সময়ে গোপনে রোহিঙ্গা জন গোষ্টিদের স্যানিটেশন ও আবাসন সামগ্রী বিতরণ করে অনুপ্রবেশে উদ্ভুদ্ধ করার প্রমান মিলেছে। বিগত দুই বছরের অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাহাড়ে ৪৫ শতাংশ রোহিঙ্গা বসতি বেড়েছে।

 

 

এর আগে হ্লেদা  রোহিঙ্গা বস্তিতে সন্দেহ জনক কর্মকান্ডের দায়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের যাবতীয় কর্মকান্ড বন্ধ করে ছিল। পরবর্তিতে গত বছরের শুরুর দিকে লোকালয়ে স্থানীয়দের মাঝে কাজের অনুমতি নিয়ে আবারো রোহিঙ্গা বান্ধব আচরন শুরু করেছে।টেকনাফ রেঞ্জের দায়িত্বরত বিট কর্মকর্তার সাথে আতাতের মাধ্যমে এই সব অনিয়ম তান্ত্রিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে দাবী করছে পাহাড়ে বসবাসরত স্থানীয় অনেকে।

 

 

অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে তাদের বিরুদ্ধে কেউ মিডিয়াকে তথ্য দিলে তাদের বিরুদ্ধে সরকারী পাহাড় দখলের মামলা দিয়ে নিমাত করে রাখেন। যদিও ফোনালাপে প্রশ্নের মুখোমুখী জবাবে, বীট কর্মকর্তা সাদেকুর রহমান, অবৈধ ভাবে রিজার্ভ বনে বসতির অপরাধে তিনি গত বছর জানুয়ারী পর্যন্ত ২৩ টি নিয়মিত মামলার কথা জানিয়েছেন।

 

 

কিন্তু ভূক্তভোগী  কয়েক জন প্রতিবেদকে তথ্য দেয়ায় হিংসাত্বক মামলায় জড়ানোর অভিযোগ করেছেন।মামলায় অধিকাংশ আসামী দেশী স্থানীয় বাসিন্দা। উক্ত কর্মকর্তা এই সব অভিযোগ অস্বীকার করে অনেকটা বিরক্তির সুরে পশ্চিম পাশে আর্মি কর্তৃক রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন খাতে পাহাড়ের মাটি কাটা এবং মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে ও প্রশ্ন চূড়েন।বীট অফিসের কালা ফারুক (বর্মান বান্দরবান), বীট কর্মকর্তা সাদেকুর রহমান পাহাড়ে জায়গা জমি বিক্রির ক্ষেত্রে ভিলেজার মাঠ পাড়ার জাফরের মাধ্যমে টাকা নিয়ে থাকেন বলে জানান পাহাড়ে অবস্থানরত বাসিন্দারা।

 

 

প্রতিটি জমি কড়া প্রতি ৫/৬ হাজার টাকা উৎকুচ নেওয়ার কথা জানান।স্থানীয়দের প্রশ্ন হচ্ছে রিজার্ভ বনভূমি উজার করে রোহিঙ্গারা বস্তি স্থাপন করে, আর ব্রাক,গ্রামীন ব্যাংক, গন স্বাস্থ্য,কোস্ট ট্রাস্ট এর মতো এনজিও গুলো তাদের ক্ষুদ্র ঋন বিতরন করে পাহাড়ে প্রতিষ্ঠিত করছে।গোপনে রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দিয়ে পাহাড়ে প্রতিষ্ঠিত করে চলছে বিভিন্ন সংস্থা। এলাকাটিতে এখন রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের ভয়ে সংবাদ কর্মী যাওয়ার চিন্তা করাটাই ঝুকি পূর্ণ। দূর্গম এলাকা হওয়াতে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী বাহিনী গুলো হত্যাকান্ড সংঘটিত করেও এই পাহাড়ে আত্ব গোপনে থাকে।

 

 

এতো অনিয়মের পরেও বীট কর্মকর্তার আজানা বলে উড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টি কিন্তু প্রশ্ন বিদ্ধ থেকে যায়।কেউ দখলের উদ্দেশ্যে গোপনে কুদাল চালানোর পূর্বে ভিলেজারদের মাধ্যমে সংবাদ তার কানে পৌছে যায় শুরু হয় দেন দরবার। ডাক ঢোল পিটিয়ে এতো আঞ্জাম শেষ হচ্ছে অতচ তিনি জানেন না, মানে তার সেচ্ছাচারীতার প্রমাান বহন করে।এই কর্মকর্তার সঠিক ভাবে দায়ীত্ব পালন নিয়েও সন্দেহ পোষন করছে এলাকাবাসী।

 

 

২০১৬ সালের জানুয়ারীর দিকে টেকনাফে এক উচ্চ পর্যায়ের  বৈঠকে বন বিভাগের চট্টগ্রাম দক্ষিন রেঞ্জের বিভাগীয় কর্মকর্তার উপস্থিতিতে পৌর মেয়র, ইউএনও,ভূমি কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাসহ সরকারের দায়িত্বশীল কর্তা ব্যক্তিরা উপস্থিতিতে এক বিশেষ সভায় সলিডারেটিস ইন্টারন্যশনাল নামক এনজিও কর্মকর্তাদের ডেকে সো’কজ চেয়ে ছিলেন, কিন্তু তারা কোন উত্তর দিতে পারেনাই তাই তাদের সমস্ত কার্যক্রম সংরক্ষিত বন থেকে গুটিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।

 

 

নির্দেশ তোয়াক্কা না করে আবার রোহিঙ্গা অধ্যুসিত দমদমিয়া পাহাড়ি এলাকায় বাঁধ দিয়ে পানি সর্বরাহ করার প্লান শুরু করেছে। এই বিষয়ে প্রজেক্ট ম্যানেজার পল্লবের কাছে জানতে চাইলে, তিনি নতুন জয়েন্ট করেছেন এবং ঢাকা পাবলিক রিলেশন অফিসে যোগাযোগ করার কথা বলে এড়িয়ে যান।তাদের কার্যক্রম রোহিঙ্গা অদ্যুসিত এলাকায় কেন জানতে চাইলে কৌশলে বলেন, সামর্থহীন জনসাধারনের পানীয় জল, লেট্রিন স্যানিটেশন সমস্যা যেখানে প্রকট সেখানেই সহায়তা দেওয়া হয়। রোহিঙ্গা বেশী নাকি স্থানীয় লোক বেশী সেটা দেখার দায়িত্ব আমাদের নয়।

 

 

তবে স্থানীয় ভাবে পাবলিক রিলেশান এন্ড কমিউনিকেশন বিষয় গুলো সমন্বয় করে মিঃ সাখাওয়াত হোসেন নামের একজন কর্মকর্তা। তার গতিবিধি সন্দেহ জনক। তার সাথে টেকনাফে মধ্যপ্রাচ্য পন্থী ওয়ামী নামক এনজিও কর্মকর্তাদের নিবিড় সম্পর্ক ছিল ইসলামিক রিলিফে দায়িত্বরত কালীন।বিগত সময়ে  ইসলামিক রিলিফের এক কর্মকর্তা মাওলানা হাফেজ কুদ্দুস জাল স্ট্যাম্প তৈরীর অপরাধে ঢাকা থেকে গ্রেফতার হওয়াতে বেশ ভেঙ্গে পড়েছিলেন তিনি।

 

 

রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন ভাবে প্রভাবি করা ও জঙ্গী কর্মকান্ড সন্দেহের অভিযোগে ইসলামী রিলিফ এনজিওটির যাবতীয় কার্যক্রম সরকারী ভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তাই ধারনা করা হচ্ছে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের বিষয়ে সলিডারেটিস ইন্টারন্যাশনাল এনজিওটিকে সন্দেহের তালিকা থেকে বাদ দেয়া যায় না কোন ভাবে।

 

 

বেসরকারী পরিসংখ্যান মতে ৫০ হাজারের অধিক রোহিঙ্গা সম্প্রতি অনুপ্রবেশ করলেও সরকারী সূত্র কদিন আগে ৫০ হাজার বলে দাবী করছেন। এদিকে মিয়ানমার ৪ঠা জানুয়ারী তাদের তদন্ত রিপোর্টে সেদেশে নির্যাতন ও মানবাধিকার লংঘনের মতো কোন প্রমান পায়নি বলে তদন্ত রিপোর্ট পেশ করার পর কক্সবাজার টেকানাফে অবস্থানরত রোহিঙ্গা উগ্রপন্থী নেতাদের মাঝে নতুন হিসাব নিকাশ কষাকষি শুরু হয়েছে।

 



রোহিঙ্গাদের দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছে সীমান্তবর্তী এলাকা, জঙ্গী আতংক জেলা জুড়েঃ



সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে,টেকনাফ উখিয়া এলাকায় অবস্থিত রোহিঙ্গা শিবির গুলোতে বা সরকারী খোলা জমিতে তাও আবার রাস্তার ধারে জোতসই স্থানে অবস্থান নিয়েছে রোহিঙ্গারা।টার্গেট মিডিয়ার নজর কাড়া।টেকনাফ-উখিয়া ছাড়িয়ে কক্সবাজারে জেল গেইটের পার্শবর্তী নতুন গ্রাম গুলোতে ও পাহাড়তলী,ঘোনাপাড়া, লারপাড়া,সমিতি পাড়া,কুতুবদিয়া পাড়া,ফদনার ডেইল,চেইন্দা,বিসিক, লাইট হাউস পাহাড়,ঈদগাহ এলাকায় নবাগত অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের অবস্থান চোখে পড়ার মতো।

 

 

ভিক্ষাবৃত্তি বেড়েছে, নতুন রিক্সা শ্রমিকদের কারনে লোকজন বেকায়দায় পড়ছে,চোরের উপদ্রব বেড়ে গেছে তুলনামূলক, নাম মাত্র মজুরীতে কাজের সন্ধানে ঘুরছে অনেকে। অনেক নারী টেকনাফ-কক্সবাজার শহরে পুরাতন রোহিঙ্গা দালাল,মক্ষীরানীদের হাত ধরে তাদের পূরানা পেশা পতিতাবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়ছে। তাতে এলাকায় মারাত্বক কুপ্রভাব পড়ছে। ফলে বিপদগামী হচ্ছে উঠতি বয়সী যুবক,ছাত্র,পেশাজীবী মানুষ। বাড়ছে সেক্সুয়াল ডিজিজের ঝুঁকি।

 

 

সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে,টেকনাফ উখিয়া ছাড়িয়ে কক্সবাজারের বিসিক,চেইন্দা,লার পাড়া,মহুরী পারা,লাইট হাউস,সমিতি পাড়া,কুতুবদিয়া পাড়া,ফদনার ডেইল এলাকায় রোহিঙ্গারা ছড়িয়ে পড়েছে। এইসব এলাকায় পাকিস্তান ভিত্তিক কিছু জঙ্গী এজেন্টদের নগদ অর্থ,টিউবওয়েল,ঘরবাড়ি নির্মান করে দেয়ার প্রমান মিলেছে। জেল গেইট এলাকায় নতুন গড়ে উঠা পল্লী গুলোতে রোহিঙ্গা নারীরা আশ্রয় নিয়ে তাদের আদি পতিতা ব্যবসা জমিয়ে তুলেছে পুরানা রোহিঙ্গা পতিতাদের হাত ধরে।জেলার বিভিন্ন জায়গায় ও পর্যটন হোটেল গুলোতে তাদের পদচারনা চোখে পড়ার মতো।

 

 

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ইয়াবার ঘাটি হিসেবে স্বীকৃত রোহিঙ্গা শিবির গুলোতে কেউ মেহমান হিসেবে গেলে ইয়াবা ও পতিতা দিয়ে আপ্যায়ন করে এই সব বস্তির কারবারীরা। মোছনী রোহিঙ্গা শিবিরের শফিকা,মোহছেনাবী,মুস্তবানির নাম উল্লেখ যোগ্য।সচিত্র প্রমান রয়েছে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভি তালাশের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে।

 

 

এইসব রোহিঙ্গা বস্তি গুলোতে ভারী ভারী অস্ত্র রয়েছে বলে গনমাধ্যমে কয়েক দফা শিরোনাম করা হয়েছিল কিন্তু প্রশাসন হানা দেওয়ার আগেই পার্শ্ববর্তি পাহাড়ে সরিয়ে ফেলাতে ব্যর্থ গেছে অভিযান গুলো।গোপনে উৎকুচের মাধ্যমে গুটিকয়েক স্থানীয় রিপোর্টারদের ম্যানেজ করে রোহিঙ্গা বস্তিতে সরাসরি অাশ্রয় দিচ্ছে বস্তিগুলোর মাঝি বা কথিত চেয়ারম্যান, মেম্বার। এই সব বস্তি নেতাদের সাথে জঙ্গীনেতা ডা. ইউনুছ,ডা. নুরুল ইসলাম,ড.ওয়াকার উদ্দীনসহ ডজন খানের রোহিঙ্গা নেতাদের সাথে।

 

 

এই সব মাঝিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে আদম পাচার, ও বিভিন্ন অপরাধমূলক দেশদ্রোহী কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের তালিকা ভূক্ত শীর্ষ মানবপাচারকারী হ্লেদা বস্তির সাবেক কথিত চেয়ারম্যান মৃত আলীর পুত্র হাফেজ আইউব পুলিশের হাতে আটক পরবর্তী জামিনে ছাড়া পেয়ে আত্বগোপনে রয়েছে।

 

 

বিভিন্ন সময়ে তাকে হ্লেদা বস্তিতে দেখা গেছে বলে অনেকে দাবী করছেন।জঙ্গী নেতা হাফেজ আইউব পালিয়ে বেড়ালেও বর্তমান মাঝি হাতুড়ে ডাক্তার দুদু মিয়া ও উত্তরসুরীসহ বেশ কিছু নিকট আত্বীয় তার পরিবারের সদস্য শাশুরী সবুরা,স্ত্রী বিবিজান,শশুর আলমগীর মিস্ত্রী,রোহিঙ্গা মাষ্টার,গোপনে তার কাছে তথ্য পাচার করে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তার নির্দেশনাতেই রোহিঙ্গাদের হ্লেদা বস্তিতে বসতির কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

 

 

রোহিঙ্গা বস্তিতে গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে গত বছর টেকনাফ মডেল থানার এএস আই আজহারের নেতৃত্বে দেশী তৈরী বন্দুক ও তাজা গুলিসহ এক নারী কে আটকের মধ্যদিয়ে বস্তি গুলোতে যে ভয়ংকর রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপ অবস্থান করে তা আস্বীকার করার উপায় নেই। এই সব রোহিঙ্গা বস্তি গুলোতে জঙ্গী কার্যক্রম বৃদ্ধি পাওয়ার মূল কারন হচ্ছে অবাধে তারা শিবিরের বাহিরে এসে দেশে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিচরন করার সুবাদে টার্গেট মতো ডাকাতি,হত্যাকান্ড ঘটিয়ে বস্তিতে লুকিয়ে থাকে নিরাপদে তাই ধরা ছোয়ার বাহিরে থেকে যায় বরাবরের মতো।

 

 

অনেকের সাধু ভাষায় কথা বলার ধরন প্রাথমিক অবস্থায় রোহিঙ্গা সেটা অনুমান করা মুশকিল। এদের নিয়মের মধ্যে রেখে প্রতিদিন হাজিরা দেওয়ার মতো বাধ্যবাধকতা রাখা হলে এই সব অপরাধ কার্যক্রম হ্রাস পেতো বলে মন্তব্য স্থানীয় জনসাধারনের।রাষ্ট্রীয় ভাবে নিবন্ধিত এনজিও গুলো তাদের রেশন সহায়তা দিলেও তা অপর্যাপ্ত বলে জানান রোহিঙ্গা শিবিরের অনেকে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা UN.WFP.MSF HOLLAND.ACF রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করলেও তাদের প্রতি কোন সঠিক নিয়ন্ত্রন নেই এই সব সংস্থাগুলোর।

 

 

জন্ম নিয়ন্ত্রন অপ্রতিরোধ্য যা বড় সমস্যা বলে বিবেচনা করা হচ্ছে তাই আগের তুলনায় লোক সংখ্যা বেড়েছে ৫ গুন। কাজের নামে বস্তির বাহিরে এসে শ্রম বাজারে ভাগ বসিয়ে দেশীয় শ্রমিকদের বেকার করে দিয়েছে।যার প্রভাব সরাসরি দেখা যাচ্ছে। আবার অনেক রোহিঙ্গা বস্তির রেশন কার্ড ধারী তারা টেকনাফ পৌরসভাসহ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় রেজিষ্ট্রার্ড জমিজমা কিনে প্রসাদোপম বাড়ি নির্মান করার দৃশ্য অবাক করার মতো।

 

 

এদেশীয় কিছু দালাল টাইপের জনপ্রতিনিধিদের ম্যানেজ করে কালো টাকা ছিটিয়ে স্থানীয় নারীদের প্রলোব্দ করে বিয়ে করে স্ত্রীর নামে রেজিস্ট্রী করার কৌশল লক্ষ্যনীয়।এই কাজে কাজী অফিস গুলো দূর্নীতি গ্রস্থতার অভিযোগ রয়েছে।এদের সাথে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের নিবিড় সখ্যতা রয়েছে।তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললেই ভয়ংকর সশস্ত্র রোহিঙ্গা জঙ্গী, সন্ত্রাসী গ্রুপ এবং কালো টাকার অশুভ ছায়া নেমে আসে।

 

 

গত ৫ ডিসেম্বর দুপুর বেলায় কুতুপালং পাহাড়ে সম্প্রতি অনুপ্রবেশকারীদের হাত থেকে রিজার্ভ বন  দখল মুক্ত করাকে কেন্দ্র করে গুলা-গুলির ঘটনায় অন্তত ২৫ জন নিরপরাধ ব্যক্তিসহ বীট কর্মকর্তা-কর্মচারী রোহিঙ্গা সশস্ত্র সম্মিলিত সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।এটাকে তাদের শক্তি প্রদর্শনের মহড়া হিসেবে কোড করে আইন প্রয়োগকারী বাহিনীদের জন্য ফর্মূলা নাম্বার ওয়ান হিসেবে সংকেত মাত্র।চাইলে তারা আরো মারাত্বক ভয়ংকর কিছু করতে পারে তার নমুনা

 

 

নয়াপাড়া ক্যাম্পে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা ম্যাজিস্ট্রেট অবরূদ্ধ করে লাঞ্ছনা সার্বভৌমত্বের উপর আগ্রাসন নয় কি? ২০১৫ সালে ৮ এপ্রিল কুতুপালং মধুছড়িতে শ খানেক ঘরবাড়ী নির্মান করে জঙ্গী প্রশিক্ষন কেন্দ্র গড়ে তুলার সচিত্র প্রতিবেদন তুলে আনতে গিয়ে জঙ্গী মদদ পুষ্ট অস্ত্র কারবারী সন্ত্রাসী আবুল কাশেম অস্ত্রের মুখে  টেকনাফ প্রেস ক্লাবের সিঃ সহ-সভাপতি,গাজী টিভি প্রতিনিধি নজির আহম্মদ সীমান্ত ও সহযোগী জালাল আহমদ মুন্নাকে অপহরন করে ছিল।গহীন অরন্যে মৃত্যুর মুখ থেকে উখিয়া থানার ওসি জহিরুল ইসলাম দ্রুত ফোর্স নিয়ে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে রোহিঙ্গা জঙ্গী তৎপরতার প্রভাব বিস্তার ও এই অঞ্চল দখলের দূর অভিসন্ধি বলে মন্তব্য করে ছিলেন সে সময়।

 

 

বিগত সময়।বিগত মাস পূর্বে টেকনাফ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি সিরাজ মেম্বারকে নিজ বাস ভবনে হুকে রাত টায় গুলি করে হত্যা করে এবং স্ত্রীকে পায়ে গুলি বিদ্ধ করে আহত করে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে যা এখনোও মানুষ ভূলেনি

 



কিছু রোহিঙ্গা প্রেমী মৌসুমী ধান্ধাবাজ কর্তৃক রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেঃ



অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ ঘটাতে কিছু দালাল সক্রিয় রয়েছে। পুরাতন পল্লান পাড়া এলাকার আক্কাছ,নাইট্যং পাড়ার বার্মাইয়া আনোয়ার,বার্মায়া সোনামিয়ার ছেলে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর বর্মী ইউনুছ, বার্মায়া নূরুল ইসলাম,যুবলীগ নেতা নামধারী ছৈয়দ আলম,মৌলভী সাইফুল্লাহ,কেকে পাড়ার বার্মাইয়া বাদশাহ, রফিক,জসিম, সাইট পাড়ার দিল মোহাম্মদ, ইয়াবা বাবুইয়া,মোহাম্মদ,স্থল বন্দরের লেবার মাঝি ছৈয়দ করিম,হ্নীলা এলাকার একজন মেম্বারের নেতৃত্বে সক্রিয় গ্রুপ, হোন্ডি জইল্যা, জাদীমুড়া এলাকার মঞ্জুর মেম্বারের দুই ছেলে, আমির ছাদেক,কেকে পাড়ার জসিম, হোয়াইক্যং মহেষখালীয়া পাড়ার বদি আলম, নাচু পাড়ার হেলাইল্যা,নতুন নাচুপাড়ার আহ্মদ হোছন প্রকাশ কালাইয়া,পৌরএলাকার সর্বজন পরিচিত  একজন সোর্স, নাইট্যং পাড়া এলাকার ইয়াবা রফিক,কেরুন্তলী,নাজির পাড়া,সাবরাং,নয়াপাড়া,শাহপরীর দ্বীপ জালিয়া পাড়া, জাদিমুড়াসহ অন্তত শ’খানেক দালাল সক্রিয় রয়েছে।তাদের প্রধান কাজ অনুপ্রবেশ কারীদের সাথে ইয়াবা আমদানী এইসব দালালদের নেতৃত্বে লোকালয়ে তাদের প্রতিষ্ঠিত করা।

 

 

পৌরসভার নাইট্যং পাড়া,কেরুন তলী,জালিয়া পাড়া এলাকায় বেশধারী রোহিঙ্গা জেলেরা রোহিঙ্গাদের ছোট নৌকায় করে মাথা পিছু ৫ থেকে ৭ হাজার টাকায় টেকনাফ সীমান্তে নিয়ে আসার ধান্ধায় ব্যস্ত রয়েছে। লেদা বস্তিতে অবস্থানরত কয়েক জন লোক সীমান্তে মাথা পিছু ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে প্রবেশ করেছেন বলে তাদের এক নিকট আত্বীয় জানান।

 

 

সুত্রে জানা গেছে,ফকিরা মুড়া,শিয়াইল্যা ঘোনা,মাঠ পাড়া, বইদ্য ঘোনা,এলাকায় বাস স্টেশন ভিত্তিক একটি জালিয়াতি সিন্ডিকেট ইয়াবা আমদানীর লক্ষ্যে পাহাড়ে জায়গা জমি কিনে দেয়ার তৎপরতায় রয়েছে।হারেছ কাউন্সিলর ও তার ভাই ভূইল্ল্যাকে ম্যানেজ করে তাদের ধান্ধা চালিয়ে যাচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

 

 

আবার এদের সাথে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের যোগাযোগ রয়েছে।প্রতিদিন নতুন নতুন রোহিঙ্গা লোক জন তাদের সাথে চলাফেরা করতে দেখে স্থানীয়রা ভীতি আশংকা করছেন।উগ্র সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী জন গোষ্ঠী  তাদের রেশন ও নগদ অর্থ প্রদানের মাধ্যমে অনুমান করা হচ্ছে,খুব শীগ্রই কোন না কোন জঙ্গী গোষ্ঠীর সাথে তাদের নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে। অতীতে সকল জঙ্গী সংগঠন গুলো প্রান্তিক পর্যায়ের জন গোষ্ঠীর সাথে এই কায়দায় সম্পর্ক গড়ে দলে বিড়ানোর তথ্য রয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও গনমাধ্যম কর্মীদের কাছে।কক্সবাজার এলাকায় বেশ কিছু জায়গায় রোহিঙ্গা কিছু মৌলভীদের মাধ্যমে নলকূপ, বাড়ী নির্মান করে দেওয়ার চিত্র ও অতীতের পরিক্রমা থেকে বুঝা যাচ্ছে, অনুমান যদি সত্যিই হয় তবে বাংলাদেশ নতুন করে চক্র বৃদ্ধি হারে উর্ধ মুখী রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী  কে দমাতে গিয়ে ফিলিস্তিন আর ইসরাইলের ঘটনার পূনঃরাবৃত্তি হতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করছেন স্থানীয় বিশেষজ্ঞরা।

 

 

প্রায় দেড় যুগ ধরে রোহিঙ্গা প্রতিরোধ কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা রোহিঙ্গা গবেষক মিঃ মুজাম্মেল হকের সাথে আলাপকালে প্রতিবেদক কে জানান,রোহিঙ্গা সমস্যা আন্তর্জাতিক সমস্যায় রূপ নিয়েছে। চলমান এই ঘটনা রাষ্ট্রকে আরো সংকটে ফেলেছে।আমাদের গবেষনায় নতুন জঙ্গী গোষ্ঠীর উদয় দেখতে পাচ্ছি,কেননা অতীতের প্রতিটি ঘটনার স্বরূপ বিশ্লেষনের ফল একই। যার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে স্থানীয় প্রতিটি ক্ষেত্রে।

 

 

রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের হাতে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার কমান্ডারকে হত্যা করে ১১ টি রাইফেল ৩৭০ রাউন্ড তাজা গুলি লুট হওয়ার ঘটনা কোন ভাবেই কাম্য নয়।কিছুতেই এটাকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই।আইন শৃঙ্খলার সূচক নিম্ন মুখী রোহিঙ্গাদের দ্বারা আক্রান্তের হার উর্ধ্বমূখী। উত্তরনের উপায় হিসেবে মিঃ মুজাম্মেল জানান,রোহিঙ্গাদের গতিবিধির উপর সতর্ক গোয়েন্দা নজরদারী রাখতে হবে এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে।

 

 

নতুন করে সংদীয় আইন প্রনয়নের প্র‍য়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। আইন না মানলে কঠোর শাস্তির বিধান রাখতে হবে। শুধু এই অঞ্চলের জনগন ও সার্বভৌম অক্ষুন্ন রাখার জন্য।এক্ষুনি সময় থাকতে যদি রাষ্ট্র সন্দেহ জনক ব্যক্তিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষন না করে তবে চূড়ান্ত একটি  ভয়ংকর আধ্যায়ের মোকাবেলার জন্য রাষ্ট্রকে প্রস্তুত থাকতে হবে।সেটা হতে পারে ছোট খাট যুদ্ধ নয়তো মিয়ানমারের সাথে সম্প্রীতির অবনতি। নয়তো  রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে জোর পুর্বক ঠেলে দিয়ে সীমান্ত সীল করে দেয়ার মতো কঠোর পন্থা অবলম্বন করতে হবে রাষ্ট্রকে কেননা রোহিঙ্গারা ময়ানমারের নাগরিক,চলমান সহিংসতা তাদের দ্বারা সৃষ্টি, এটা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় তাই খাল কেটে কুমির ঢুকিয়ে বিপদ ডেকে আনার কোন প্র‍য়োজনীয়তা নেই।

 

 

তাই অনতি বিলম্বে এইসব জনগোষ্ঠীকে একটি রুলস করে গাইড লাইনের মাধ্যমে বাইন্ডিংসের মধ্যে রেখে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মাধ্যমে বা রাষ্ট্রীয় উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনা জোরদার করে অনুপ্রবেশকারীদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন নিশ্চিত করতে হবে।অন্যতায় তারা একদিন এই দেশের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে মাঠে নেমে এই জনপদের মানুষ হত্যা করবে নিঃসন্ধেহে। এমনকি সার্বভৌমত্ব নিয়ে টানাটানি করতে পারে। অতীতের প্রতিটি ঘটনার ধারাবাহিকতার সমীকরন যদি সিনেমার মতো একজন অসহায় ভিনদেশী মুসাফির মুসলমানের ধর্মীয় দোহায় দিয়ে করুনা বা অন্যের দান খইরাতের আশ্রয় থেকে কিছু দিনের মধ্যেই একাধারে সুফির আলকেল্লা গায়ে ভয়ংকর জঙ্গী নেতা নামে সংবাদ পত্রের শিরোনাম দখল করে!তা কিসের ইঙ্গিত বহন করে বলার অপেক্ষা থাকে না।

 

 

সুতরাং রাষ্ট্রকে আরো কৌশলী হয়ে চক্রান্ত মোকাবেলা ও রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফেরত পাঠানোর পথে এগিয়ে যাওয়ার পথে হাটতে হবে এমনটি মতামত জানালেন সুশীল ছাত্র ও পেশা জীবি সমাজ।

(চলবে….)

বার্তা কক্ষ মেইল:

news.crimewatchbd24@gmail.com

বার্তা কক্ষ মুঠোফোন:

+৮৮ ০১৯ ২০০ ৯৯২৮৮

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত "ক্রাইম ওয়াচ"

Design & Devaloped BY Popular-IT.Com