রবিবার, ৫ই ভাদ্র, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ : ২০শে আগস্ট, ২০১৭ ইং

নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে পার পেলেন গাইবান্ধার এসপি

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল, গাইবান্ধা

সাঁওতালদের উচ্ছেদের ঘটনায় হাইকোর্টে দেয়া প্রতিবেদনে ‘দুষ্কৃতিকারী বাঙালি’ শব্দ ব্যবহার করার বিষয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে অব্যাহতি পেলেন গাইবান্ধার পুলিশ সুপার (এসপি)আশরাফুল আলম।

 

 

বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের হাইকোর্ট বে  রবিবার তাকে শতর্ক করে ক্ষমা করে দেন। একইসঙ্গে আগুন লাগানোর ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দিয়েছে আদালত।

আদালতে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।

 

 

এর আগে ‘বাঙালি দুষ্কৃতকারী’ শব্দ ব্যবহার করার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবদুস সামাদকে তলব করেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের ডিভিশন বে । গত ১২ ডিসেম্বর তিনি আদালতে হাজির  হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন। আদালতে ডিসি আবদুস সামাদ বলেন, গত ১৬ নভেম্বর পুলিশ সুপারের কাছ থেকে হামলার ঘটনার বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা পাই। ওই বর্ণনায় বাঙালি দুষ্কৃতিকারী শব্দটি ছিল। যেহেতু বিষয়টি তদন্তের জন্য নিয়েছি সেহেতু ওই শব্দটি হুবহু রাখা হয়েছে।

 

 

এরপর আদালত ডিসিকে ক্ষমা করে দেন। একইসঙ্গে গাইবান্ধার এসপিকে স্বশরীরে তলব করে হাইকোর্টের ওই বে । ২ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টায় তাকে আদালতে উপস্থিত হতে বলা হয় আদেশে। হাইকোর্টের তলবে গত ২ জানুয়ারি হাজির হয়েছিলেন গাইবান্ধার এই পুলিশ সুপার। কিন্তু ওইদিন বিচারপতি মোহাম্মদ বজলুর রহমানের মৃত্যুতে ছুটি ঘোষণা করায় তিনি রেজিস্ট্রার জেনারেলের মাধ্যমে হাজিরা দেওয়ার আবেদন করেন। গত ৪ জানুয়ারি ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু আশরাফুল ইসলামের ওই আবেদনটি আদালতে উপস্থাপন করলে আদালত আবার ৮ জানুয়ারি তাকে হাজিরের নির্দেশ দেন।

 

 

সাঁওতালদের উচ্ছেদের সময় তাদের উপর হামলার ঘটনায় বর্তমানে দুটি রিট শুনানি চলছে হাইকোর্টে। একটি রিট করা হয় সাঁওতালদের পক্ষ থেকে। অন্যটি করেছে বেসরকারি সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), অ্যাসোসিয়েশন অব ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি) এবং ব্রতী সমাজকল্যাণ সংস্থা।

 

 

রিটে স্বরাষ্ট্র সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, শিল্প সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, পুলিশের রংপুর রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক, গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার, গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান, রংপুর সুগার মিল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সাহেবগঞ্জ সুগারক্যান ফার্মের উপ-মহাব্যবস্থাপক, স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়।

 

 

গত ৬ নভেম্বর রংপুর চিনিকলের সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্মের বিরোধপূর্ণজমি নিয়ে চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারী ও সাঁওতালদের সংঘর্ষ থামাতে গুলি চালায় পুলিশ। এতে তিন সাঁওতাল নিহত হন, আহত হন অনেকে। পরে পুলিশ-র‌্যাব ওই দিন সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এক অভিযান চালিয়ে মিলের জমি থেকে সাঁওতালদের উচ্ছেদ করে।

বার্তা কক্ষ মেইল:

news.crimewatchbd24@gmail.com

বার্তা কক্ষ মুঠোফোন:

+৮৮ ০১৯ ২০০ ৯৯২৮৮

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত "ক্রাইম ওয়াচ"

Design & Devaloped BY Popular-IT.Com