রবিবার, ৭ই কার্তিক, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ : ২২শে অক্টোবর, ২০১৭ ইং

নওগাঁর নওহাটা পুলিশ ফাঁড়ি এলাকায় ফের মাদকের স্বর্গরাজ্যে পরিনত

”২২ জার্কিন ও ৫ শত বোতল মদ উদ্ধার করা হলেও জরিত কাউকে আটক করেনি পুলিশ” 


মোঃ সুইট হোসেন নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: ফের মাদক দ্রব্যের স্বর্গরাজ্যে পরিনত হয়ে উঠতে শুরু করেছে নওগাঁর নওহাটা পুলিশ ফাঁড়ি এলাকা । মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে এ ফাঁড়ি এলাকার কয়েকটি স্পটে কারখানা বসিয়ে ফের তৈরী হচ্ছে চোলাই মদ। এছাড়া ফেন্সিডিল, বাংলা মদ, গাঁজা, এ্যালকোহল, হিরোইন ও ইয়াবা ট্যাবলেট এর কেনাবেচা চলছে এক প্রকার প্রকাশ্যে বলেই চলে। ফাঁড়ি পুলিশ মাঝে মাঝেই মাদকের স্পট গুলোতে অভিযান চালিয়ে সেবনকারীদের আটক করলেও মাসোহারা নেয়ার বিনিময়ে মাদক কেনাবেচার মূল হোতাদের আটক করেন না বলেই এমন অভিযোগ স্থানিয়দের ।

 

সম্পতি গত ১৫ ফেব্র“য়ারী বুধবার মহাদেবপুর থানার ওসি তদন্তর নের্তৃত্বে নওহাটা পুলিশ ফাঁড়ি এলাকার কয়েকটি মাদকের স্পটে মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়। ঐ অভিযানে ওসি তদন্তর নের্তৃত্বে ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই আমিনুল সহ ফাঁড়ি পুলিশের দল অংশ নিয়ে মাদকের স্পট গুলোতে অভিযান চালিয়ে স্পটের আশেপাশের মাঠের ক্ষেতের ভেতর লুকিয়ে রাখা অবস্থায় ( পাষ্টিকের বড় ২২ টি জার্কিন ও এন্যার্জি ডিংকস এর ৫ শত বোতল ) ভর্তি স্থানিয়ভাবে তৈরী চোলাই মদ ও মদ তৈরীর উপকরন উদ্ধার করলেও অভিযানের সময় কোন মাদক তৈরী বা বিক্রির সাথে জরিত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। পরে অভিযানে উদ্ধারকৃত ঐ বিপুল পরিমান চোলাই মদ গুলো নষ্ট করেন ফাঁড়ি পুলিশ।

 

এব্যাপারে নাম প্রকাশ না করার শর্তে চেরাগপুর গ্রামের দুজন সচেতন ব্যাক্তি বলেন, আমরা মাদকের বিরুদ্ধে প্রকাশে কথা বলে মাদক ব্যবসায়ীরা আমাদেরই হয়রানী করবে, ইতি পূর্বে মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান করায় গ্রামের কয়েকজনকে নারী শিশু নির্যাতন মামলা দিয়ে হয়রানী করেছে মাদক ব্যবসায়ীরা জানিয়ে তারা আরো বলেন, ফাঁড়ি পুলিশের লোকজন মাসোহারা নেয়ার কারনেই অভিযানের আগেই মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে অভিযানের খবর পৌছে যায়।

 

এব্যাপারে ফাঁড়ি ইনচার্জ এস আই আমিনুল মাদক ব্যবসায়িদের কাছে থেকে মাসোহারা নেয়ার কথা গুলো সত্য নয় দাবি করে জানান, আমি আসার পর থেকে একের পর এক মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে আসছি, ইতিমধ্যে কয়েক জন মাদক বিক্রেতাকে আটক করে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে । এব্যাপারে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানিয় এক জনপ্রতিনিধি বলেন, মাদক বিক্রেতারা পুলিশের কারো না কারো সাথে সম্পর্ক রাখার কারনেই পুলিশের হাতে ধরা পড়া থেকে রক্ষা পান।

 

কারন হিসেবে তিনি উলেখ করেন, সর্বশেষ অভিযানই তার প্রমান, পুলিশ বিপুল পরিমান চোলাই মদ উদ্ধার করলেও উদ্ধারের সময় কোন মাদক বিক্রেতাকে আটক করতে পারেননি। কারন অভিযানের পূর্বেই মাদক ব্যবসায়ীরা অভিযানের কথা জানতে পেরেছেন বলেই তারা মদ গুলো বাড়ি থেকে সরিয়ে মাঠের মধ্যে রেখে পালিয়েছেন বলে ধারনা পোষন করেন এই জনপ্রতিনিধি।

 

তথ্য অনুসন্ধানে জানাগেছে, বিশেষ করে বর্তমান জেলা পুলিশ সুপার নওগাঁয় যোগদানের পর থেকে জেলার অন্নান্ন স্থানের ন্যায় নওহাটা পুলিশ ফাঁড়ি এলাকার চেরাগপুর ও ভীমপুর ইউনিয়নের মাদকের স্পট গুলোতে ফাঁড়ি পুলিশের একের পর এক মাদক বিরোধী অভিযানের কারনে মাদক দ্রব্য কেনাবেচা ও তৈরী এক প্রকার বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছিল। সম্পতি প্রায়-দু মাস পূর্বে থেকে এলাকায় ফের মাদক দ্রব্যের ব্যবসা বেপরোয়াভাবে শুরু করেছে অসাধু মাদক ব্যবসায়ীরা।

 

অভিযোগ রয়েছে স্থানিয় ফাঁড়ি পুলিশের কতিপয় কর্মকর্তাকে মাসোহারার মাধ্যমে ম্যানেজ করে এলাকার চেরাগপুর ইউনিয়নের স্বরুপপুর পাহানপাড়া, চেরাগপুর ঋৃষিপাড়া, চৌমাশিয়া পাহানপাড়া ও ভীমপুর ইউনিয়নের খোর্দ্দনারায়নপুর, পিড়া, বেলঘরিয়া ও ভান্ডারপুর গ্রামে এক প্রকার প্রকাশ্যে চলছে চোলাই মদ ,গাঁজা ও ইয়াবার কেনাবেচা। এরি মধ্যে চৌমাশিয়া পাহানপাড়া, চেরাগপুর ঋষিপাড়া ও পিড়া বেলঘরিয়া গ্রামের কয়েকটি বাড়িতে কারখানা বসিয়ে স্থানিয়ভাবে তৈরী করা হচ্ছে চোলাই মদ বলেও অভিযোগ রয়েছে।

 

এছাড়া হাটচকগৌরী, বটতলি, চান্দাহাট, কদমতলি মোড় ও সরস্বতীপুর বাজারে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে ফেন্সিডিল, হিরোইন , গাঁজা ও ইয়াবা ট্যাবলেট এর কেনাবেচা চালিয়ে যাচ্ছে অসাধু মাদক ব্যবসায়ীরা। আর মাদকের অর্থ যোগাতে গিয়ে চুরি সহ বিভিন্ন প্রকার অপরাধ মূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে মাদক সেবিরা। মাদক সেবনকারীদের পাশাপাশি মাদকদ্রব্য ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে জোরালো অভিযানের জন্য জেলা পুলিশ সুপার সহ কর্তৃপক্ষের আশু দৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকার সচেতন মহল।

বার্তা কক্ষ মেইল:

news.crimewatchbd24@gmail.com

বার্তা কক্ষ মুঠোফোন:

+৮৮ ০১৯ ২০০ ৯৯২৮৮

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত "ক্রাইম ওয়াচ"

Design & Devaloped BY Popular-IT.Com