শনিবার, ৬ই কার্তিক, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ : ২১শে অক্টোবর, ২০১৭ ইং

ডিমলায় ব্যাপক পরিমান সরকারী ঔষধসহ গ্রেফতার ১

মহিনুল ইসলাম সুজন,নীলফামারী প্রতিনিধি

নীলফামারীর ডিমলায় সোমবার রাতে ডিমলা সরকারী হাসপাতালের বিপুল পরিমান ঔষধ উদ্ধার করা হয়েছে। রাত আড়াইটার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিমলা থানার উপ-পরিদর্শক শাহাবুদ্দিন হাসপাতালের পর্টার মমিনুর রহমান (৩২) বাড়ী থেকে এসব ঔষধ উদ্ধার করেন। এ সময় মমিনুর রহমানকে পুলিশ গ্রেফতার করে। সে বালাপাড়া ইউনিয়নের রুপাহারা গ্রামের হযরত আলীর পুত্র। গত ৫ বছর থেকে মমিনুর রহমান ডিমলা হাসপাতালের ইপিআই ভ্যাকসিন কেন্দ্রে পৌছে দেয়ার জন্য চুক্তিভিত্তিক (পর্টার পদে) চাকুরী করে আসছে।

 

ঘটনার পর থেকে ডিমলা হাসপাতালের স্টোর কিপার মোবারক আলী ও সহকারী কম্পাউন্ডার সফিয়ার রহমান গাঢাকা দিয়েছে। মঙ্গলবার সকালে আটককৃত ব্যক্তিকে গনমাধ্যমকর্মীদের সামনে হাজির করা হলে সে জানান,হাসপাতালের স্টোরকিপার মোবারক আলী ও সহকারী কম্পাউন্ডার সফিয়ার রহমানের যোগসাজসে তিনি তা করেছেন। দুপুরে জব্দকৃত ২টি বস্তায় উদ্ধারকৃত ১৩টি আইটেমের ঔষধ ২০ হাজার ৩৩০পিচ,যাহার মুল্য আনুমানিক মুল্য ২লক্ষ টাকা মর্মে পুলিশ জানায়। নীলফামারীর সিভিল সার্জন ডাক্তার আব্দুর রশিদ জানায়, সরকারী বিপুল পরিমান উদ্ধারের বিষয়টি শুনেছি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

 

উদ্ধারকৃত ঔষধগুলো ডিমলা হাসপাতালের কিনা তদন্ত না করে বলা যাচ্ছে না। ডিমলা হাসপাতালের স্টোর কিপার মোবারক আলী বলেন, আমি কুড়িগ্রামে আছি। ডিমলা হাসপাতালের ঔষধ বাইরে যাওয়ার প্রশ্ন উঠে না। ডিমলা থানার উপ-পরিদর্শক শাহাবুদ্দিন বলেন, রাত আড়াইটার দিকে মোবাইলে সংবাদ পাই ডিমলা হাসপাতালের ২ বস্তা সরকারী ঔষধ মাইক্রোবাসে করে মমিনুরের বাড়ী নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে সরকারী হাসপাতালের ২বস্তা ঔষধ উদ্ধার করা হয়েছে। সকাল থেকে ঔষধগুলোর গননা শেষে ২০ হাজার ৩৩০পিচ পাওয়া যায়।

 

ডিমলা হাসপাতালের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (আবাসিক মেডিকেল অফিসার) ডাঃ রাশেদুজ্জামান বলেন, আমি নীলফামারীতে মিটিং আছি। সরকারী ঔষধ উদ্ধারের বিষয়টি শুনেছি তবে সেটি ডিমলা হাসপাতালের কিনা তদন্ত না করে বলা যাচ্ছে না।ডিমলা থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, উদ্ধারকৃত সরকারী হাসপাতালের ঔষধের মুল্য ২ লক্ষাধিক টাকা। ডিমলা হাসপাতাল কতৃপক্ষকে বাদী করে মামলার প্রস্তুতি চলছে। গ্রেফতারকৃত মমিনুর রহমানকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার বিকালে ডিমলা হাসপাতালের স্টোর অফিস সিলগালা করা হয়েছে।

 

এবং আবাসিক মেডিকেল অফিসার রাশেদুজ্জামানকে আহবায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার অনুপ কুমার রায় ও স্বাস্থ্য পরিদর্শক লোকমান হোসেন। আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছেন সিভিল সার্জন ডাক্তার আব্দুর রশিদ। মোবারক আলী ২ বছর থেকে ডিমলা হাসপাতালের স্টোর কিপারের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি সোমবার সন্ধ্যায় অফিসে ছুটি না নিয়ে আকস্মিক ভাবে কুড়িগ্রাম নিজ বাড়ীতে চলে যান

বার্তা কক্ষ মেইল:

news.crimewatchbd24@gmail.com

বার্তা কক্ষ মুঠোফোন:

+৮৮ ০১৯ ২০০ ৯৯২৮৮

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত "ক্রাইম ওয়াচ"

Design & Devaloped BY Popular-IT.Com