বুধবার, ৮ই ভাদ্র, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ : ২৩শে আগস্ট, ২০১৭ ইং

শৈলকূপায় আধিপত্য বিস্তারে ৩০ টি বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট

স্টাফ রিপোর্টার,ঝিনাইদহ


এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জের ধরে ঝিনাইদহে শৈলকূপার বগুড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ নেতা নজরুল ইসলাম ও তার ছেলে রাজীব বাহাদুরের বিরুদ্ধে প্রায় ৩০ টি বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। বগুড়া ইউনিয়নের সাবেক ইউ পি সদস্য আওয়ামীলীগ নেতা মোহাম্মাদ আলী জানান, গত কাল সকাল ৬ টায় গ্রামের সাধারন মানুষ ঘুম থেকে জেগে উথার সাথে সাথে ১০ নং বগুড়া ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ নেতা ও তার ছেলে শৈলকূপা থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারন সম্পাদকের নেতৃত্বে রতণাট ও বগুড়া গ্রামের মোকাদ্দেস হোসেন বিশ্বাস, মনিরুল মোল্লা, আশিক বিশ্বাস, সিদ্দিক শেখ, ফরস উদ্দিন, নাটা শেখ, নুরুল হক, আশরাফুল, রতন বিশ্বাস সহ প্রায় ২০০ শত লোকের একটি দল ডাল, সড়কি, রামদা সহ আরো অন্যন্য দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।

এ হামলা প্রায় ২ ঘণ্টা ব্যাপী স্থায়ী হয়। এই সময়ে বগুড়া গ্রামের মজিবর বিশ্বাস, মস্তো বিশ্বাস, রঞ্জু বিশ্বাস, সেলিম বিশ্বাস, হালিম বিশ্বাস, মিজান বিশ্বাস,করিম শেখ, মস্তো শেখ, ফরিদ মুন্সী, ফারুক মুন্সী, মজিদ শেখ, শাহাদত শেখ, নায়েব শেখ, হাসেম আলী শেখ, সদর আলী শেখ, জাহিদ শেখ, আব্বাস আলী মিয়া, গোলাম শেখ, বেলাল কাজী, নাসিরুল শেখ,মন্টু শেখ,ঝন্টু শেখ, বেলাল শেখ, হানেফ মিয়া, হাবিবুর রহমান মিয়া, মাজেদ মিয়া, মিলন মোল্লা ও মোহাম্মাদ আলী সহ প্রায় ৩০ টা বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট চালায়ে প্রায় ১৪ লক্ষ টাকার নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য নিয়ে গেছে। তবে মোহাম্মাদ আলীর বাড়ি ২ বছর আগে ভাংচুর হয়েছে বলে তার এক প্রতিবেশী জানায়।

মোহাম্মাদ আলী আরো বলেন, আমি ২০১৪ সাল থেকে বর্তমান চেয়ারম্যানের অত্যাচারে বাড়ি ছেড়ে অন্যন্ত্র বসবাস করছি। গত বুধবার আমার বাড়ি ফিরে আসা কে কেন্দ্র করে গ্রামের ৭০ বছরের বৃদ্ধা মজিদ ঔষধ কিনতে বাজারে গেলে সেখান থেকে তাকে ধরে মারধর করে। তারপর শামছুল শেখ(৬০) কে বাড়ির উপর থেকে ধরে এনে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহাত করে ইহা ছাড়া ইসরাইল নামের ১৪ বছরের এক বালকে পিটিয়ে আহত করে। বগুড়া ঘাটের মাঝি জানায় আমি কোন দলের সাথে নেই তবে কেন ওরা আমার বাড়িটা এই ভাবে ভাংচুর করল?

এদিকে ভাংচুরের পর ঘোষণা এসেছে এই বাড়ি গুলির ৮ বছরের উপরে বয়স যাদের তাদের দেখা মাত্র পিটিতে হাসপাতালে পাঠান হবে এই ভঁয়ে ভাংচুর কৃত বাড়ি গুলি পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে যার ফলে প্রায় ২০০ শত পুরুষ মানুষ ঘরছাড়া হয়ে পড়েছে। বগুড়া বাজারের অনেকের দোকান পাট ভঁয়ে বন্ধ করে রেখেছে চেয়ারম্যানের লোকজন। ফলে তাদের বাজার ঘাট বন্ধ হয়ে গেছে। এই দুই গ্রামের সাধারন মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয় মহিলারা জানান, যে সকাল বেলা ৬ টা থেকে এই ভাংচুর শুরু করে। খবর পেয়ে পুলিশ আসলে তাদের সামনে ভাংচুর চালায়। পুলিশ নিরব দর্শকের ভুমিকা পালন করে। জানা গেছে, এই ভাংচুর কৃত বাড়ির মধ্যে ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা ফরিদ মুন্সী, আওয়ামীলীগের ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি আব্বাস আলী মিয়া ও জালাল হত্যা মামলার বাদী রয়েছে। এ প্রসঙ্গে ইউ পি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করে হলে সে জানান, মোহাম্মাদ আলী নামের একজন সন্ত্রাসী বাহিরের সন্ত্রাসী লোকজন নিয়ে ঐ বাড়ী গুলিতে অবস্থান করছিল তখন গ্রামের লোকজন উত্তেজিত হয়ে কয়েক টি বাড়ি ভাংচুর করেছে। তবে আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। এঘটনায় হাট ফাজিল পুর ক্যাম্পের এস আই নিমাই চন্দ্র দেবনাথ জানান, আমারা খবর পেয়ে ঘটনা স্থানে ৬৩০ মিনিটে হাজির হয়ে কাউকে দেখতে পাইনি। তবে ৩/৪ টি বাড়ি ভাংচুর হয়েছে। যদি কেউ অভিযোগ দেয় তাহলে আমারা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

বার্তা কক্ষ মেইল:

news.crimewatchbd24@gmail.com

বার্তা কক্ষ মুঠোফোন:

+৮৮ ০১৯ ২০০ ৯৯২৮৮

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত "ক্রাইম ওয়াচ"

Design & Devaloped BY Popular-IT.Com