বুধবার, ৮ই ভাদ্র, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ : ২৩শে আগস্ট, ২০১৭ ইং

টেকনাফে ৪৫% ক্যাশ ব্যাক সুবিধা প্যাথলজির !গ্রাম ডাক্তারের খপ্পরে রোগী দিশেহারা!!

খাঁন মাহমুদ আইউব(কক্সবাজার প্রতিনিধি)


কক্সবাজার’র টেকনাফ এখন হাতুড়ে ডাক্তারদের উপদ্রপ অসহনীয়।অশিক্ষিত এই প্রান্তিক জনগোষ্টি রোগ সারাতে ডিগ্রীধারী ডাক্তারে কাছে না গিয়ে প্রথমে সল্প খরচে রোগ সারাতে গ্রাম্য চিকিৎসকদের কাছে গিয়েই তিন গুন বেশী পয়সা গড়ছা দিচ্ছে।এসব কারন উদঘাটনে বেরিয়ে এসেছে প্যাথলজির সাথে ৪৫/৫০%কমিশনে ক্যাশ ব্যাক চুক্তি।সার্জারী কালীন স্কুল ছাত্রের মৃত্যুর পরেও প্রশাসনের সাড়া জাগে নাই।

 

দেশে অন্যান্য মফস্বল শহরের তুলনায় এফসিপিএস ডাক্তার বা এমবিবিএস ডাক্তার এবং আরএমপি চিকিৎসকদের তফাৎ বুঝেনা এই জনপদের ৯০ শতাংশ মানুষ।সেখানে আবার ঔষুধ কোম্পানী এবং অত্যান্ত নিম্নমানের কয়েকটি প্যাথলজি সেন্টার সম্পর্কে জ্ঞান থাকার কল্পনা করাটা মোটেও কাম্য নয়।যারা ডিগ্রীর তকমা লাগিয়ে চিকিৎসা বানিজ্য সাজিয়েছে ডাক্তার পাড়া জুড়ে।ঠিক তাদের আদলে এলএমএফ বা হাতুড়ে চিকিৎসকরা ডাঃ লিখা বিশাল সাইনবোর্ড সাটিয়ে ৪৫% কমিশনে একগাদা পরীক্ষার নামে অহেতুক ল্যাব মেডিকো,টেকনাফ প্যাথলজি,সীমান্ত প্যাথলজি নামের নাম মাত্র প্যাথলজি মালিকদের সাথে চুক্তি করে পয়সা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে সূত্রে জানাগেছে।যা মানবতা বা সেবার নামে প্রহসন হিসাবে বিবেচনা করেছেন অভিজ্ঞ মহল।

 

অনুসন্ধানে দেখা গেছে,উপজেলা পৌরশহরে প্রতিটি ফার্মেসীতে একজন চিকিৎসক রয়েছেন।এরা প্যাথলজি মালিক ও ঔষুধ কোম্পানীনের মদদ পুষ্ট প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন।বেশীর ভাগ অশিক্ষিত রোগীরা এইসব চিকিৎসকদের কাছে এসে প্রতারিত হয়।অনুসন্ধান মতে, পৌর শহরে অন্তত ৩৫ জন গ্রাম্য চিকিৎসক রয়েছেন।তাদের সাথে ল্যাব মালিকদের ৪৫-৫০% কমিশনের চুক্তি রয়েছে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।কয়েকজন রোগীর অভিযোগের সূত্র ধরে, ফার্মেসী গুলো ঘুরে রোগীদের সাথে কথা বলে কাগজপত্র দেখে চিকিৎসার নামে বাটপারীর তথ্য উঠে এসেছে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েক জন রোগী জানান,বাসষ্টেশন গনী মার্কেটে গ্রাম্য ডাক্তার সুজিত শর্মা বিশাল সাইনবোর্ডে ডাঃ তকমালেপে চেম্বার করেন।

 

বিগত সময়ে তিনি উক্ত ফার্মেসীতে সহকারী হিসেবে চাকুরী করতেন।৩ বছর ধরে চাকুরী বাদ দিয়ে ডাক্তারী শুরু করেছেন।রোগী আসলেই রোগীর অবস্থা বুঝে একগাদা পরীক্ষা লিখে সরাসরি চুক্তিকৃত ল্যাব মেডিকো নামক ডায়াগনেষ্টিক সেন্টারে পাঠিয়েদেন।দেখা গেছে অন্য ল্যাব থেকে কমিশন বিহীন কম টাকায় রিপোর্ট এনে দেখালে রিপোর্ট ভূল এসেছে বলে চুক্তিকৃত ল্যাবে আবার পাঠিয়ে দেন।১শ টাকা ভিজিট ফি নিয়ে ১ হাজার টাকার পরীক্ষা লিখে দিলে ৫০% কমিশন সুবিধা নিয়ে মোট ৬শ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে এই সব হাতুড়ে ডাক্তারদের বিরুদ্ধে।৬০ উর্ধ্ব এক জন স্থানীয় ভদ্র মহিলা রোগী জানালেন, রোগী গেলেই কমপক্ষে ৫/৬শ টাকার পরীক্ষা লিখে দেন এই সব ডাক্তারেরা।এবার যাওয়ার বেলায় ব্যবস্থা পত্র অনুযায়ী একই ফার্মেসী থেকে কমিশনধারী মেডিসিন কোম্পানীদের মেডিসিন ধরিয়ে দিয়ে টাকা জায়েজ করেনেন।সুতরাং তিন দিক থেকে সহজ সরল অশিক্ষিত রোগীদের পণ্য বানিয়ে ধান্ধ করে পয়সা হাতিয়ে নেওয়া নিত্য নৈমত্তিক চিত্র প্রতিটি ফার্মেসীতে অবস্থানরত হাতুড়ে ডাক্তারদের।যেনো প্রশাসনের কারো কিছু করার নেই।

 

ফলে তিনগুন বেশী পয়সা গুনতে হচ্ছে এই সব অপ চিকিৎসকদের কারনে।টেকনাফ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কয়েক জন মেডিকেল অফিসারদের সাথে আলাপ কালে জানা গেছে,উপজেলায় ১৪৫ জন হাতুড়ে চিকিৎসক রয়েছে।তাদের ভূল চিকিৎসার কারনে রোগ জটিল হলে রোগীরা হাসপাতালে আসে।এই বিষয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষ কে জানানো হয়েছিলো তবে অদৃশ্য কারনে ব্যবস্থা নেয়া হয়না।মেডিকেল অফিসার ডাঃ এনামুল হক বলেন,দেখা যায় সামান্য জ্বরে এন্টিবায়োটিক ও এন্টি হিস্টামিন দিলে এমনিতে সেরে উঠে।সেখানে তারা টায়ফয়েড,পস্রাব,ইসিজি, আল্ট্রার মতো পরীক্ষা দিয়ে থাকেন।এমনিতে জ্বরে পেট ব্যাথা হতে পারে স্বাভাবিক, সেখানে আল্ট্রাসনোগ্রাফী দেয়ার মোটেও প্রশ্ন উঠেনা।

 

এদিকে গেলো বছরের শেষ দিকে পৌরসভায় একজন হাতুড়ে ডাক্তারের হাতে সাবরাং এলাকা চতুর্থ শ্রেণীর এক ছাত্র কোমরে টিউওমার অপারেশন কালীন স্পটে মৃত্যু ঘটেছে।যদিও কায়দা করে একজন জনপ্রতিনিধিকে ম্যানেজ করে কয়েক লাখ টাকার বিনিময়ে পারপেয়ে গেছেন।কিন্তু পারপেয়ে যাওয়ার পিছনে রয়েছে গ্রাম্য ডাক্তার সিণ্ডিকেটের আর্থিক ভিত্তি মজবুত বলে তথ্য পাওয়া গেছে।এইসব বিষয়ে সত্যতা নিশ্চিত করতে গিয়ে চিকিৎসক সুজিত’র সাথে অলাপকালীন জানালান,রোগীর প্র‍য়োজনে পরীক্ষা দেয়া হয় ৩ টি।এটা গ্রাম্য চিকিৎসক সমিতির সিদ্ধান্তে গৃহীত ।তবে তিনি আগে লিখেছেন বিগত একমাস যাবত সমিতির সিদ্ধান্তক্রমে পরীক্ষা গুলো দেয়া বন্ধ করেছেন।

 

তিনি এটাও বলেছেন,ল্যাব মালিকদের সাথে ফার্মেসী মালিকদের সম্পর্ক,তাই অধিকাংশ মালিকরা নিজেরা বলেদেন কোথায় যাবেন।অপর দিকে এইসব হাতুড়ে ডাক্তারেরা কাটা ছেড়া জটিল সার্জারী চিকিৎসা করে থাকেন।কিন্তু এইসব চিকিৎসা করার একতিয়ার কতটুকু আইন সঙ্গত জানতে চাইলে,চিকিৎসক মুবিন ও অপু কোন সদুত্তর দিতে পারেন নাই।এদিকে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে,এই সব ডাক্তারদের কারনে অনেকে মারা যাচ্ছে,বিকলাঙ্গ হয়ে পড়ছেন।১০০ টাকার হোম সার্ভিস খ্যাত চিকিৎসক জাহাঙ্গীর ফোন করা মাত্র ব্যাগ ভর্তি ইঞ্জেকশান নিয়ে বাইক যোগে এসে ইঞ্জেকশন পুশ করে ৫শ টাকা হাতিয়ে চলে যাওয়ার অহরহ প্রমান রয়েছে।এসবের পরেও জেলা সিভিল সার্জনের কোন পদক্ষেপ চোখে পড়ছেনা।তাই নাম মাত্র প্যাথলজি মালিকদের সনাক্ত করে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা জরুরী হয়ে পড়েছে বলে মত দিয়েছেন ভূক্ত ভোগীরা।সুতরাং হাতুড়ে ডাক্তারদের অপচিকিৎসা বন্ধে এলাকার সুশীল সমাজ প্রতিনিধিরা জেলা সিভিল সার্জনের হস্তক্ষেপ কামনা করে তদন্ত পূর্বক মৌলিক অধিকার নিয়ে বানিজ্য বন্ধের দাবী জানান।

বার্তা কক্ষ মেইল:

news.crimewatchbd24@gmail.com

বার্তা কক্ষ মুঠোফোন:

+৮৮ ০১৯ ২০০ ৯৯২৮৮

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত "ক্রাইম ওয়াচ"

Design & Devaloped BY Popular-IT.Com