বুধবার, ৮ই ভাদ্র, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ : ২৩শে আগস্ট, ২০১৭ ইং

নওগাঁয় শিব মন্ডপে হামলা মারপিট ও ভাংচুর

মোঃ সুইট হোসেন নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি


নওগাঁর মহাদেবপুরের গণেশপুর গ্রামে সেল ফোনে ছবি তুলতে বাধা দেয়ায় স্থানীয় কিছু যুবক পূজা চলাকালে দু’দফায় শিব মন্ডপে হামলা মারপিট ও ভাংচুর করেছে। হামলা ও ভাংচুরের পর থেকে মন্ডপে পূজা বন্ধ রাখা হয়েছে। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে মিসাংশার আশ্বাস দিলেও হামলাকারিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মহাদেবপুর সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপারসহ থানার অফিসার ইনচার্জ। ইত্যে পূর্বে এলাকায় এমন ঘটনা ঘটনারপর কোন বিচার না হওয়ায় এমন ঘটনার সাহস পেয়েছেন বলে মনে করেন স্থানীয় লোকজনরা।

 

জানা গেছে, নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার গণেশপুর গ্রামে গত বুধবার হিন্দু সম্প্রদায়ের এক মেয়ের সেল ফোনে ছবি তোলার চেষ্টা করে একই গ্রামের মানিক ও মিলন হোসেন এবং পার্শ্ববতী গ্রাম নওগাঁ সদর উপজেলার জালালপুর গ্রামের সুমন, সাঈদ, নাইমসহ কয়েকজন যুবক। এ নিয়ে গণেশপুর গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের এক যুবক ছবি তুলতে বাধা দেন। এরই জের ধরে বুধবার বিকেলে গ্রামের শিব মন্ডপে পূজা চলাকালে গণেশপুর গ্রামের মিলন হোসেন(১৮) ও জালালপুর গ্রামের সুমনের (২১) নেতৃত্বে মানিক, সাঈদ, নাইমসহ কয়েকজন যুবক সংঘবদ্ধ সস্ত্রাসী কায়দায় লাঠিশোটা নিয়ে আসে হামলা চালিয়ে মারপিট করা হয়। তাদের এলোপাতাড়ি মারপিটে তিন নারীসহ ৮/৯জন আহত হয়েছে। এ সময় আতঙ্কে পূজার বন্ধ করে দেয়া হয়।

 

শিব মন্ডপ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মিলন কুমার গাইন জানান, ঘটনাটি স্থানীয় জনপ্রতিনিধের সহযোগিতায় শুক্রবার বিকেলে বৈঠকের মাধ্যমে মিমাংশা করা করা হয়। কিন্তু ওই যুবকরা আরো ১০/১২ জনকে নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে আবারও মন্ডপে হামলা চালায়। মন্ডপে থাকা কালী প্রতিমার চামুন্ড, পূজার বিভিন্ন উপকরণ সহ ঢাক-ঢোলক ভেঙ্গে ফেলা হয়।

 

শিব মন্ডপ কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি সদস্য বিপুল কুমার হাজরা জানান, প্রায় অর্ধশত বছর থেকে প্রতি বছর এই মন্ডপে এ সময় দুই দিন ব্যাপী পূজা অনুষ্ঠিত শুরু হয়। তারই ধারাবাহিকতায় বুধবার পূজা শুরু হওয়ার পর এলাকার কিছু দুষ্কৃতি প্রথম দফায় হামলা চালায়। স্থানীয় ভাবে মিমাংশার উদ্যোগ নিলে তারা আবারও অন্যায় ভাবে হামলা চালায়। এরপর থেকে মন্ডপে পূজা বন্ধ রাখা হয়েছে। এর সুষ্ঠ সমাধান করার দাবি ও জানান তিনি।

 

তিনি আরো জানানএ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় আগামি সোমবার বিষয়টি সুষ্ঠ মিমাংশার আশ্বাস দেয়া হয়েছে। এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করলে এ জন্যেই এখন পর্যন্ত থানায় কোন মামলা দায়ের করা হয়নি।

 

ভীমপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রামপ্রসাদ ভদ্র জানান, ইত্যে পূর্বে এলাকার বেশ কিছু মন্দিরে হামলা, ভাংচুরের ঘটনা ঘটলেও এতো বড় ঘটনা এবারই প্রথম। পূর্বে ঘটনায় কোন বিচার না হওয়ায় এমন ঘটনার দুর্বৃত্তরা সাহস পেয়েছে। ঘটনাটির যে আকার শুরু হয়েছে দ্রুত সমাধান করা না হলেও এলাকায় বড় ধরণের আকার ধারণ করতে পারে বলে মনে করছেন এই স্থানীয় জনপ্রতিনিধি।

 

থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, ঘটনার সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গ্রামের মাতব্বর প্রধানরা বৈঠকের মাধ্যমে স্থানীয় ভাবে মিমাংশার করা হবে বলে জানিয়েছেন। তবে ঘটনারপর থেকে জড়িতরা পলাতক রয়েছে।

 

নওগাঁ পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক জানান, সকল ধর্মের নিজ নিজ ধর্ম পালনের সমান অধিকার। যারা এতে বাধা দিবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইত্যে মধ্যে স্থানীয় পুলিশকে মামলা দায়ের করে দ্রুত ঘটনার সাথে জড়িদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।

বার্তা কক্ষ মেইল:

news.crimewatchbd24@gmail.com

বার্তা কক্ষ মুঠোফোন:

+৮৮ ০১৯ ২০০ ৯৯২৮৮

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত "ক্রাইম ওয়াচ"

Design & Devaloped BY Popular-IT.Com