বৃহস্পতিবার, ১৫ই আষাঢ়, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ : ২৯শে জুন, ২০১৭ ইং

বর্তমান ও সাবেক ভিসি’র দ্বন্দ্বঃভেস্তে যাচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের

শাহ্ আলম শাহী,স্টাফ রিপোর্টার

বর্তমান ও সাবেক ভিসি’র( ভাইস চ্যাঞ্জেলর) অন্তঃদ্বন্দ্বে দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম ভেস্তে যেতে বসেছে। একদিকে দু’ছাত্রীকে যৌন হয়রানী,মানষিক নির্যাতন ও অনৈতিক কাজে বাধ্য করার প্রতিবাদে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অন্যদিকে বিএসসি এগ্রিকালচার এন্ড এগ্রিবিজনেস ডিগ্রি’র পরিবর্তে পুর্নাঙ্গ বিএসসি ইন এগ্রিকালচার ডিগ্রি চালুর দাবীতে ফুঁসে উঠেছে শিক্ষার্থীরা। এ আন্দোলন করতে গিয়ে শ্লীলতাহানীর হয়েছেন বলে অভিযোগ করছেন তারা। অভিযুক্ত সাবেক ভিসি’র বিরুদ্ধে সোমবারও আন্দোলন করছেন তারা। এতে ভেস্তে যাচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম।

 

দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ছিলো ভাইস চেঞ্জলর-ভিসি শুণ্য।চলতি বছরের ১ ফেব্রয়ারি শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের এক প্রজ্ঞাপন জারি’র মাধ্যমে ২ ফেব্রুয়ারি ভিসি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন প্রফেসর ড. মু. আবুল কাসেম। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ময়মনসিংহ এর কৃষি সম্প্রসারণ শিক্ষা বিভাগের প্রফেসর ড. মু. আবুল কাসেম পরবর্তী চার বছরের জন্য ভিসি নিযুক্ত হন। এদিকে দীর্ঘদিনের সাবেক ভিসি প্রফেসর রুহুল আমিন দায়িত্ব পান ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডীন হিসেবে। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক,কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে হয়ে যায় দু’ভাগে বিভাজন। কেউ বর্তমান ভিসি আবার কেউ সাবেক ভিসি’র পক্ষ অবলম্বন করেন। এনিয়ে প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়ে। সম্প্রতি এরই প্রভাব পড়ে শিক্ষার্থীদের উপর। এমনি কথা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড.বলরাম রায়। তিনি বলেন,বর্তমান ভিসি সবকিছু বিভাজন করে ফেলেছেন। তিনি শিক্ষকদের পিছে শিক্ষার্থীদের লেলিয়ে দিচ্ছেন।

 

দীর্ঘ ৮ মাস পর দু’ছাত্রীকে যৌন হয়রানী,মানষিক নির্যাতন ও অনৈতিক কাজে বাধ্য করার প্রতিবাদে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধনের পাশাপাশি অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তি মূলক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবীতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তার কুশপুত্তলিকা দাহ করে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ বিশ্বাবিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের শিক্ষক দীপক কুমার সরকার দু’ছাত্রীকে যৌন হয়রানী,মানষিক নির্যাতন ও অনৈতিক কাজে বাধ্য করে। ২০১৬ সালের ২২ ও ২৪ সেপ্টেম্বর দু’টি লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিয়ে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। ঘটনার সত্যতা পেয়ে রিপোর্ট পেশ করলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে গ্রহন করেনি কোন ব্যবস্থা । অন্যদিকে বিএসসি এগ্রিকালচার এন্ড এগ্রিবিজনেস ডিগ্রি’র পরিবর্তে পুর্নাঙ্গ বিএসসি ইন এগ্রিকালচার ডিগ্রি চালুর দাবীতে ফুঁসে উঠেছে শিক্ষার্থীরা। এ আন্দোলন করতে গিয়ে সাবেক ভিসি’র মাধ্যমে শ্লীলতাহানীর হয়েছেন ছাত্রীরা এমন অভিযোগও করেছেন তারা । অভিযুক্ত সাবেক ভিসি’র বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন তারা। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তারা বিচারও চেয়েছেন সাবেক ভিসি প্রফেসর রুহুল আমিনের।

 

অভিযোগ তদন্ত এর জন্য বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সোস্যাল সায়েন্স এন্ড হিউম্যানিটিস অনুষদের ডীন ড, ফাহিমা খানমকে চেয়ারম্যান এবং সহকারী প্রফেসর শফিকুল ইসলামকে সদস্য সচিব করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন। এবং ৭ কার্য দিবসের মধ্যে রিপোর্ট প্রদানের জন্য বলা হয়। তদন্ত কমিটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত সম্পন্ন করে বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষক্ষের কাছে জমা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কমিটি’র সদস্য সচিব প্রফেসর ড,শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন অভিযুক্ত শিক্ষক দীপক কুমার সরকারের ঘটনা ধামাচাপা দিতে বর্তমান ভিসি অন্য ঘটনায় পাতানো খেলায় মেতেছেন।
এ ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে জন্য অভিযুক্ত শিক্ষক দীপক কুমার সরকার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনা অস্বীকার করেন। তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে বলে তিনি জানান।

 

অন্যদিকে কৃষি ও কৃষিবাণিজ্য ডিগ্রীর পরিবর্তে পুর্নাঙ্গ কৃষি সম্মান ডিগ্রী চালুর দাবীতে ফুঁসে উঠেছে শিক্ষার্থীরা। ২০১৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি ও কৃষিবাণিজ্য ডিগ্রী চালু করে তৎকালীন উপাচার্য প্রফেসর রুহুল আমিন। কিন্তু এই অনুষদের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন চাকুরীর ক্ষেত্রে সুযোগ না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে এই ডিগ্রী বাতিল করে কৃষি সম্মান ডিগ্রী চালুর দাবি করে আসছে তারা। এরই জের ধরে তৎকালীন উপাচার্য বর্তমান ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডীন প্রফেসর রুহুল আমিনকে রোববার অবরুদ্ধ করে শিক্ষার্থীরা। এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী শ্লীলতাহানীর শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা। এনিয়ে উপাচার্য প্রফেসর ড,মুহম্মদ আবুল কাসেম ৯ সদস্যের একটি তদন্ত টিম গঠন করেছেন। কিন্তু সাবেক ভিসি প্রফেসর রুহুল আমিন বলছেন, সব ঘটনা ঘটছে অদক্ষ প্রশাসনের কারণে। বর্তমান ভিসি সবকিছু বিভাজন করে রেখেছেন।

 

বিষয়টি নিয়ে হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড, মু আবুল কাসেম এর সঙ্গে যোগাযাগ করা হয়। তদন্ত রিপোর্ট সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে তিনি জানান। বর্তমান ও সাবেক ভিসি’র অন্তঃদ্বন্দ্বের কারণে ভেস্তে যেতে বসেছে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম । এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে আগামীতে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম অনিশ্চিত হয়ে পড়বে এমনটাই মন্তব্য করেছেন অভিভাবক ও শিক্ষাবিদরা।

বার্তা কক্ষ মেইল:

news.crimewatchbd24@gmail.com

বার্তা কক্ষ মুঠোফোন:

+৮৮ ০১৯ ২০০ ৯৯২৮৮

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত "ক্রাইম ওয়াচ"

Design & Devaloped BY Popular-IT.Com