বুধবার, ৮ই ভাদ্র, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ : ২৩শে আগস্ট, ২০১৭ ইং

রমজান মাসে অভাব অনটনে রোজা রাখছে সুনামগঞ্জের হাওরবাসী

জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া,সুনামগঞ্জ থেকে


সুনামগঞ্জে এক ফসলী বোরো ধান হারিয়ে হাওরপাড়ের হাজার হাজার কৃষক পরিবারে নেই রমজান মাসের উৎসাহ-উদ্দিপনা। আছে উৎবেগ উৎকণ্ঠা আর বুকভরা দ্বীর্ঘ শ্বাস। রমজান মাসকে সামনে রেখে সরকারী ভাবে সহযোগীতার কোন পরিকল্পনা না থাকায় অভাবী এই হাওরবাসীর সমস্যা রয়েই গেল। বেশির ভাগ হাওরবাসী অর্ধহারে,অনাহারে,অভাব-অনটন কে সঙ্গী করে রমজান মাসে রোজা রাখছে।

 

ফসলহারা মানুষ গুলো খেয়ে না খেয়ে অতি কষ্টে সেহেরী ও ইফতারীতে পানি ভাত আর রুটি,শাক পাতা আর যা পাচ্ছে তা দিয়ে কোন রখমে রোজা পালন করছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন দ্বীপ সাদৃশ্য গ্রাম গুলো টাকার অভাবে অনেকেই বাজার সদাই করতেও পারছে না। এ অবস্থায় দু-মুটো খাবার জোগানো কঠিন হয়ে গেছে এখন। প্রতি বছর বাজারে যারা রমজান মাসকে সামনে রেখে বিভিন্ন প্রকার দ্রব সামগ্রী নিয়ে বাজার জমিয়ে তুলত ও জমকালো আয়োজন ইফতার সামগ্রী নিয়ে হাজির হত শত শত ভ্রামমান্য দোকানী এবার সেই সব দোকান গুলোতে জমকালো কোন আয়োজন নেই নেই কোন ভিড়।

 

সাদা মাটা ভাবেই কোন রখমে চলছে সব। এবার জেলার ছোট-বড় বিভিন্ন হাওর পানিতে ভড়ে কানায় কানায় পরিপূর্ন হলেও হাওরে মাছের দেখা নেই। যার উপর হাওরবাসী বর্ষার ৬মাস জীবন-জীবিকা পরিচালিত করত বংশ পরমপরায় তাও শেষ। ফলে অভাব অনটনের কারনে এবার সর্বত্রই হাহাকার যার জন্য অন্যান্য বছরের মত এবার রমজান মাসে নেই হাওরবাসীর মাঝে কোন আনন্দ আছে শুধুই বুকভরা র্দীঘশ্বাস।

 

জেলার দিরাই,শাল্লা,জগন্নাথপুর,ধর্মপাশা,জামালগঞ্জ,দোয়ারা বাজার,বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুর উপজেলার অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দূর্নীতির কারনে ১৪২টি হাওর রক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে অকালে হাওরের ৯০ভাগ এক ফসলী বোরো ধান পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে স্বরনকালের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে জেলার হাজার হাজার কৃষক পরিবার গুলোর।

 

শুধু সুনামগঞ্জ জেলা নয় মৌলভী বাজার,নেত্রকোনা,কিশোরগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলাও এবার অকাল বন্যায় চরম ক্ষতির শিকার হয়েছে। হাওর ডুবে যাওয়ার পর থেকে সরকারী,বেসরকারী ও ব্যাক্তিগত উদ্যোগে ক্ষতি গ্রস্থদের সহায়তার চেষ্টা চলছে প্রতিটি উপজেলায় কিন্তু সহযোগীতা পেলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় কম। এদিকে সরকারী ফেয়ার প্রাইজ,টিসিবির পন্য বন্ধ,ভিজিএফ কার্ডে অনিয়ম ও ওএমএস চাল সঠিক ভাবে না পাওয়ায় সুনামগঞ্জের ১১টি উপজেলার বিভিন্ন উপজেলার প্রত্যান্ত এলাকার দ্বীপ সাদৃশ্য গ্রামের বেশির ভাগ হাওরবাসী অর্ধহারে,অনাহারে,অভাব-অনটন কে সঙ্গী করে রমজান মাসে কষ্টের মাঝেই রোজা পালন করছে।

 

বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না থাকায় হাওরবাসী চরম দূভোর্গের মধ্যে আছে। বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা ও সরকারের সু-নজর না থাকায় এই মানব সম্পদ এখন দিন দিন সমাজের ভোজা হচ্ছে। যার জন্যে এই অনুন্নত অবহেলিত হাওরবাসীর কণ্ঠে কেবলেই শুধু বাচাঁর আকুতি। জেলার বিভিন্ন হাওরপাড়ের ক্ষতিগ্রস্থ লোকজন জানান,কি কইমু ভাই এবার বোরো ধান হারিয়ে এক বারেই নিঃশ্ব হয়ে গেছি। পানি ভাত,শাক রুটি যা জোগাড় করতা পারি তাই খাইয়া রোজা রাখি।

 

রমাজান মাসে প্রতি বছর আলাদা কিছু কইরা ভাল ভাল খাবার তৈয়ার কইরা খাইবার লাগি বাজার থেইকা জিনিস আনতাম পরিবার তৈয়ার কইরা দিত খাইতাম এইবার ত জান যায় ভাল খাইমু কই থ্যাইকা। সামনে ঈদ পোলা মাইয়ারে কি ভাবে নতুন কাপড় কিনা দিমু আর জীব চালাইমু বুজতা পারতাছিনা। জেলার সচেতন মহল মনে করেন-হাওর উন্নয়নে সরকার হাওরবাসীর যোগাযোগ ব্যবস্থা,মিল-কলখারকানা,বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ সহ আর্থসামাজিক উন্নয়নে কাজ করলেও সুনামগঞ্জের হাওরা লের ব্যাপারে উদাসীন।

 

এই বেকার জনগোষ্টীকে সম্পদে পরিনত করার জন্য মিল-কলখারকানা স্থাপন,কুটির শিল্পের সাথে যুক্ত করলে নারী সমাজ স্বাবলম্বী হওয়ার পাশা পাশি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখবে। অভাব অনটন থাকবে না। তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কারুজ্জামান কামরুল জানান-শিক্ষা,স্বাস্থ্য,যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রয়োজনী ও যুগপযুগী পদক্ষেপের মাধ্যমে অবহেলিত সুনামগঞ্জ জেলার হাওরবাসীর উন্নয়নের স্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে হাওরবাসীরা তাদের জীবন মানের উন্নয়ন গঠাতে সক্ষম হবে। না হলে এই অসহায় হাওরবাসীর দুখের শেষ থাকবে না।

বার্তা কক্ষ মেইল:

news.crimewatchbd24@gmail.com

বার্তা কক্ষ মুঠোফোন:

+৮৮ ০১৯ ২০০ ৯৯২৮৮

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত "ক্রাইম ওয়াচ"

Design & Devaloped BY Popular-IT.Com