বুধবার, ৮ই ভাদ্র, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ : ২৩শে আগস্ট, ২০১৭ ইং

রামগঞ্জে দরপত্রের এক বছর আগেই কাজ শেষ!

 মু.ওয়াছীঊদ্দিন,লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধিঃ-


লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় দরপত্র আহ্বানের এক বছর আগেই ১০টি নির্মানকাজ শেষ ফেলা হয়েছে। সেই সঙ্গে একটি ঊচ্চ বিদ্যালয় ও একটি বাজারের নামে ভুয়া দরপত্র আহ্বান করে টাকা আন্তসাতেরও অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আ ক ম রুহুল আমিন তাঁর ঘনিষ্ঠদের দিয়ে আগেই কাজ গুলো সেরে ফেলেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি), থোক বরাদ্দের আওতায় ১৯টি প্যাকেজে নলকূপ স্থাপন,সীমানাপ্রাচীর,শৌচাগার নির্মানসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজের প্রায় এক কোটি টাকা দরপত্র আহ্বান করা হয় গত ৩ মে। দরপত্র বিক্রির শেষ দিন ছিলো ১৭ মে। আর দাখিলের শেষ সময় ১৮ মে। তবে ঠিকাদারদের গতকাল পর্যন্ত কার্যদেশ দেওয়া হয়নি।
গত ২১ মে এই দরপত্র আহ্বান নিয়ে প্রতিবেদককে বলেন,‘উপজেলা চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলর; রামগঞ্জে কোটি টাকার দরপত্রে সমঝোতা? অনলাইন পোটাল শীর্ষ সংবাদে প্রকাশিত হয়। এর ফলোআপ করতে গিযে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ঠিকাদারসহ বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে ও সরজমিনে ১৯ টি প্যাকেজের ১২টির ব্যাপারে আভিযোগ পাওয়া যায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনজন জনপ্রতিনিধি ও আওয়ামীলীগের চারজন নেতা বলেন, ইছাপুর উচ্চবিদ্যালয়ের কম্পিউটার ল্যাব কক্ষ নির্মানের জন্য ৬ লক্ষ ৪৩ হাজার টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়। কিন্তু রামগঞ্জ উপজেলায় এই নামের কোন উচ্চবিদ্যালয় নেই। শোশালিয়া নামের কোন বাজার না থাকলেও এই নামের একটি বাজারের শৌচাগার নির্মানের জন্যও ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়। অথচ কাজগুলো এক বছর আগেই সম্পন্ন হয়েছে।
আথকরা বাজার মসজিদ কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,মসজিদ কমিটির উদ্যোগে পাড়টি আরও এক বছর আগেই নির্মান করা হয়। পরে উপজেলা চেয়াম্যান বলেন,দরপত্র আহ্বান করে কিছু টাকা তাঁদের দিবেন।
এই সব বিষয়ে জানতে চাইলে,উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান ভূঁইয়া বলেন ইছাপুর উচ্চবিদ্যালয় নামের কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রামগঞ্জে নেই।
এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়াম্যান আ ক ম রুহুল আমিন প্রতিবেদকে বলেন,‘ইউপি চেয়ারম্যানরা প্রকল্প দিয়েছেন। সেটা আমরা সভা করে অনুমোদন দিয়েছি। আর গত অর্থবছরে আহ্বান করা দরপত্রের কয়েকটি কাজ করে ফেলেছেন ঠিকাদারেরা । বরাদ্দ না থাকায় সেগুলোর বিল ওই সময় আমরা দিতে পারিনি। এ বছর সেগুলো আবার আহ্বান করা হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী অনুপম কুমার বড়–য়া বলেন,গত অর্থবছরে বেশ কিছু প্রকল্প নেওয়া হয়। সেগুলোর কাজ করে ফেলেন ঠিকাদার। কিন্তু বিল দেওয়া হয়নি। সেই প্রকল্পগুলোর জন্য এবার দরপত্র আহ্বান করা হয়। আর শোশালিয়া বাজার ও ইছাপুর উচ্চবিদ্যালয়ের নামে যে প্রকল্প দেওয়া হয়েছে,সেটি ভূল হয়েছে। সংশোধন করা হবে।
ইউএনও মোহাম্মদ আবু ইউছুফ বলেন,‘বিষটি জেনেছি ভূয়া প্রকল্প দিয়ে বা কাজ না করে বিল নেওয়ার কোন সুযোগ নেই।আমরা এই বিষয়টি নিয়ে বসছি। প্রকৌশলীকে সরজমিনে দেখতে বলছি। চিহ্নিত করে প্রকল্পগুলো বাতিল করা হবে’।

 

বার্তা কক্ষ মেইল:

news.crimewatchbd24@gmail.com

বার্তা কক্ষ মুঠোফোন:

+৮৮ ০১৯ ২০০ ৯৯২৮৮

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত "ক্রাইম ওয়াচ"

Design & Devaloped BY Popular-IT.Com