মঙ্গলবার, ১০ই শ্রাবণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ : ২৫শে জুলাই, ২০১৭ ইং

শরীয়তপুরে বাবার বিরুদ্ধে মা কে অপহরণের অভিযোগ, পিতার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

এইচ এম আতিক ইকবাল

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার কলুকাঠি গ্রাম থেকে বকুল সুলতানা (৪৬) নামে এক গৃহবধূকে অপহরনের অভিযোগ উঠেছে। গত ৭ জুন ভোররাতে বাড়ি থেকে তাকে অপহরন করা হয়। ওই নারির স্বামী হাবীবুর রহমান ও তার এক আত্মীয় জাহাঙ্গির হোসেনকে আসামী করে নড়িয়া থানায় ১৩ জুন মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি দায়ের করেন ওই দম্পত্তির ছেলে মোহাম্মদ আলী বেপারি। শুক্রবার ওই গৃহবধূর চার শিশু সন্তান সংবাদ সম্মেলন করে মাকে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানায়।

নড়িয়া থানা ও স্থানিয় সূত্র জানায়,নড়িয়া উপজেলার আকসা গ্রামের মৃত সোহরাব মীরের মেয়ে বকুল সুলতানার বিয়ে হয় একই উপজেলার কলুকাঠি গ্রামের হাবীবুর রহমান বেপারির সাথে। তাদের চারটি সন্তান রয়েছে। হাবীবুর রহমান ঢাকায় একটি পোষাক বিক্রির দোকানে কাজ করেন। বকুল সুলতানা সন্তানদের নিয়ে কলুকাঠি গ্রামে বসবাস করতেন। পরিবারের সদস্যদের অজান্তে পাঁচ বছর আগে হাবীবুর রহমান আরেকটি বিয়ে করেন। ওই স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকায় বসবাস করতে থাকেন। এ নিয়ে বকুল হাবীব দম্পত্তির বিরোধ হয়। হাবীব তাদের ভরন পোষন দেয়া বন্ধ করে দেন। সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে বকুল আইনের আশ্রয় নেয়ার প্রস্তুতি নেন। এতে হাবীব আরো ক্ষুব্দ হন।

গত ৭ জুন সেহেরি ও নামাজের পরে বাড়ি থেকে নিখোজ হন বকুল সুলতানা। বকুলের ভাই লোকমান মীর ওই দিন থানায় সাধারন ডায়েরি করেন। বকুলের সন্ধান না পেয়ে তার ছেলে নড়িয়া কলেজের দ্বাদশ শ্রেনীর ছাত্র মোহাম্মদ আলী থানায় অপহরন মামলা দায়ের করে। মামলায় তার বাবা হাবীবুর রহমান ও তার এক আত্মীয় জাহাঙ্গির হোসেনকে আসামী করা হয়।
মাকে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানিয়ে শুক্রবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে বকুল সুলতানার চার শিশু সন্তান। তারা তাদের মাকে জীবিত ফিরিয়ে দেয়ার আহবান জানায় পুলিশের কাছে।

বকুল হাবীব দম্পত্তির ছেলে মোহাম্মদ আলী বলেন,আমার বাবার বিয়ের বিষয়টি দুই বছর আগে আমরা জানতে পারি। তখন থেকেই সে আমার মা ও আমাদের অত্যাচার করতে থাকে। আমাদের সংসার খরচের টাকা দেয়া বন্ধ করে দেন। ৭ জুন ভোরে প্রতিবেশি জাহাঙ্গির মাকে ঘর থেকে ডেকে রাস্তায় নিয়ে যায়। তখন বাবা তাকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। থানায় মামলা করেছি,পুলিশ এখনও মাকে উদ্ধার করতে পারেনি। বাবা আমাদের ছেরে চলে গেছে,মাকে অপহরন করা হয়েছে। এখন কে আমাদের আশ্রয় দেবে। আমরা ছোট ছোট ভাই বোনেরা মায়ের ফিরে আসার অপেক্ষায় আছি। আপনারা আমদের মাকে খুজে পেতে সহায়তা করুন।

থানায় মামলা হওয়ার পর থেকে জাহাঙ্গির ও হাবীবুর রহমান পলাতক রয়েছে। মুঠোফোনে চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি। তাদের মুঠোফোন বন্ধ রয়েছে।

নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকরাম আলী মিয়া বলেন,গৃহবধূ অপহরনের ঘটনায় মামলা হয়েছে। স্বামীর বিরুদ্ধে অপহরনের অভিযোগ এনে তার ছেলে মামলা করেছে। মামলার পর থেকে দুই আসামী পলাতক রয়েছে। পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে। ওই নারীকেও খুজে পাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় খবর পেয়ে অনলাইন নিউজ পোর্টাল ক্রাইম ওয়াচ বিডি টোয়েন্টি ফোর ডট কম এ “নড়িয়া কলুকাঠিতে চার সন্তানের জননী নিখোঁজ” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয় , এবং তাতে ঘটনার বিবরণ ছিল “শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার নড়িয়া পৌরশহরের কলুকাঠি গ্রামে গতকাল বুধবার ভোরে নিজ বাড়ী হতে বকুল সুলতানা নামের চল্লিশোর্ধ এক গৃহবঁধূ নিখোঁজের সংবাদ পাওয়া গেছে । এই ঘটনায় নড়িয়া থানায় রাত আটটার সময় নিখোঁজের বড় ছেলে একটি জিডি করেছেন ।

নিখোঁজ বকুল সুলতানা নড়িয়া পৌরশহরের পাঁচ নং ওয়ার্ড এর মৃত নূরমোহাম্মাদ বেপারীর ছেলে হাবিবুর রহমান বেপারীর স্ত্রী এবং তিনি চার সন্তানের জননী । হাবিবুর রহমান ঢাকায় কাজ করেনএবং তার দ্বিতীয় স্ত্রী আছে বলেও জানাযায় । ঘটনাটি সকালে তাকে মুঠোফোনে অবহিত করা হয় ।

ঘটনা ভোর রাতের হলেও নিখোঁজের সংবাদটি ছড়িয়ে পড়ে সন্ধ্যার পর । অনেক খোঁজাখুঁজির পরেও না পেয়ে নিখোঁজ বকুলের ভাই ও বড় ছেলে পরিবারের অন্যদের নিয়ে নড়িয়া থানায় একটি জিডি করতে যান রাত আটটায় ।

ঘটনাস্থল কলুকাঠি গ্রামে হাবিবুর রহমান বেপারীর বাড়িতে গিয়ে, দেখা যায় বাড়িতে কেউ নেই , প্রতিবেশীরা বসে আছেন বাড়ির উঠানে । তারা বলেন , নিখোঁজ বকুলের সন্তান এবং ভাই নড়িয়া থানায় গেছেন ।

রাত এগারোটায় বকুল এর স্বামী হাবিবুর রহমান ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরলে তার সাথে কোনো কথা বলা যায় নি, তিনি এসেই বাড়ির উঠোন পেরিয়ে পার্শবর্তী কোনো এক বাড়ি চলে যান ।

এরই মধ্যে বকুলের বড় ছেলে মোহাম্মদ আলী (উনিশ) থানা হতে বাড়ি ফিরলে তার সাথে আলাপকালে তিনি বলেন , আমি ঢাকায় ছিলাম , খবর শুনে বাড়ি আসি, আমার মা কে অনেক খুঁজছি পাইনাই , তাই থানায় একটা জিডি করে ফিরলাম । তিনি আরো বলেন , তার বাবা এবং মায়ের সাথে কলহ ছিলো , ছোটবেলা থেকে পিতার আদর পাননি তিনি , নানু বাড়ী থেকে বড় হয়েছেন , বাবার সাথে বুজতে শিখার পর মাত্র চারবার দেখা হয়েছে , বাসায় মা অনেক কষ্ট করে চলতো, মারধর আর মানসিক নির্যাতন করতো , আরেকজন কে বিয়ে করে বাবা তাদের নিয়েই থাকেন , ঘটনা তাকে সকালে জানানো হলে তিনি আসলেন রাত এগারোটায় । আমার মা আমার দেখা খুবই ভালো একজন মানুষ , কষ্ট করে এতো কিছুর পরেও আমাদের নিয়ে সংসার করেছেন , কি বলবো ? আমি আইনি সহায়তা চাই , আমার মাকে খুঁজে পেতে চাই ।

নিখোঁজের ঘরের সাথেই থাকেন শিল্পী বয়াতি , তিনি বলেন , ভোরে কুকুরের ডাক শুনে সজাগ হলে শুনতে পাই , বকুল বলছে পরিচিত মানুষ চিনছ না (কুকুর উদ্দেশ্য করে ) ,এরপর আর কিছু জানিনা । সকালে বকুলের মেয়ে জুঁই বাহির থেকে দরজা আটকানো দেখে খুলতে বললে আমি দরজা খুইলা দিছি ।আর কিছু জানিনা ।

নড়িয়া থানা পুলিশের এস আই দেলোয়ার রাত এগারোটায় ঘনটাস্থলে গেলে নিখোঁজ বকুলের স্বামী হাবিবুর রহমান আবারো নিজের উঠোনে আসে , কিন্তু পুলিশের উপস্থিতি দেখা সত্ত্বেও তিনি আবার দ্রুত চলে যান ।

তবে পারিবারিক কলহ ও হটাৎ নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি অনেক প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে একাকাবাসীর মনে । সন্তানরা চান মাকে ফিরে পেতে । কিন্তু স্বামীর অবস্থান পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে না ।

বার্তা কক্ষ মেইল:

news.crimewatchbd24@gmail.com

বার্তা কক্ষ মুঠোফোন:

+৮৮ ০১৯ ২০০ ৯৯২৮৮

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত "ক্রাইম ওয়াচ"

Design & Devaloped BY Popular-IT.Com