বুধবার, ৩রা কার্তিক, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ : ১৮ই অক্টোবর, ২০১৭ ইং

‘বিশেষ বান্ধবী’ না, আমি কার্লোসের স্ত্রী : সাবিনা

‘বিশেষ বান্ধবী না, আমি কার্লোসের বিয়ে করা স্ত্রী। তারপরও গণমাধ্যমে আমাকে বিশেষ বান্ধবী বলে সম্বোধন করা হচ্ছে। যা আমার বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য একপ্রকার হুমকির সৃষ্টি হচ্ছে। আমার নাম সাবিনা রিমা এবং যে মেয়েটি সেদিন কার্লোসের ফ্ল্যাট থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার হয় তার নাম ছিল শিমু। যতদূর জানি তার বাড়ি বরিশাল। কিন্তু অনেকেই না বুঝে আমাকেই সেই মেয়ে মনে করছে। ‘- একটি জাতীয় দৈনিকের সঙ্গে আলাপকালে এভাবেই নিজেকে কার্লোসের স্ত্রী বলে দাবি করলেন সাবিনা রিমা।

সম্প্রতি রাজধানীর পরীবাগের একটি ফ্ল্যাটে সালেহ চৌধুরী ওরফে কার্লোস তার গৃহকর্মীকে সাত তলা থেকে ফেলে হত্যাচেষ্টার বিষয়টি নিয়ে বেশ হইচই চারিদিকে। বিশেষ করে কার্লোসকে ঘিরে যেসব মডেল ও অভিনেত্রীদের নাম বেরিয়ে এসেছে সেগুলো নিয়ে নিত্য নতুন মুখরোচক গল্প উচ্চারিত হচ্ছে। এ তালিকায় উঠে এসেছে মিডিয়াপাড়ার বেশ কয়েকজনের নাম। আর এদের সঙ্গে বিশেষ বান্ধবী হিসেবে নাম উঠে আসে সাবিনা রিমার।

সাবিনা বলেন, ‘আমি কার্লোসের একমাত্র বিবাহিত স্ত্রী। ওর অন্য কোনো স্ত্রী নেই। থাকলে আমি জানতাম। আর বলা হচ্ছে যে আমি সেদিন আহত হয়ে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে এসেছি। আমি যদি আহত হতাম তাহলে এখন শুটিং করছি কীভাবে? আসলে ঐদিন অন্য একটি মেয়ে ছিল বাসায়। ‘

সাবিনা আরও বলেন, ‘আমি কার্লোসের বৈধ স্ত্রী। এক বছরেরও বেশি সময় আগে আমাদের ঘরোয়া আয়োজনে বিয়ে হয়। বিয়ের সেই কাবিননামাসহ আরো অনেক প্রমাণ আমার কাছে রয়েছে। কিন্তু গণমাধ্যমে আমার পরিচয়টা পাল্টে দেয়া হয়েছে। সবাই আমাকে কার্লোসের বিশেষ বান্ধবী হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। বিষয়টি নিয়ে আমি খুবই হতাশ হয়েছি। আরেকটা বিষয় জানানো উচিত, কার্লোস ইয়াবা সেবন করে এবং সেটার পর আমার সঙ্গে নানান বাজে ব্যবহার করায় আমি গত সাত মাস যাবৎ তার কাছ থেকে আলাদা থাকছি। শুধু তাই নয়, অ্যাডভোকেটের সঙ্গে কথাও বলেছি। কিছুদিনের মধ্যেই চূড়ান্ত বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ‘

ঘটনা ঘটার তিনদিন পর এসব বিষয়ে মুখ খুললেন কেন? সাথে সাথেই কেন জানাননি সবাইকে? এবার সাবিনা বলেন, ‘দেখুন ঘটনার পরের দিনই বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেখলাম আমাকে বিশেষ বান্ধবী পরিচয়ে উপস্থাপন করা হচ্ছে। প্রতিবাদ করতে গিয়েও করতে পারিনি। কাছের বন্ধুরা বলেছিল এ বিষয়ে চুপচাপ থাকতে। অন্যথায় বিতর্কিত এই ইস্যুতে নিজের নাম জড়িয়ে গেলে ক্যারিয়ার হুমকির মুখে পড়তে পারে। শেষ পর্যন্ত মুখ খুলতে বাধ্য হলাম। স্ত্রী হয়েও কেন আমাকে খারাপভাবে উপস্থাপিত হতে হবে?’

সাবিনা আরও বলেন, ‘আমি জানতামই না কার্লোসের আরও অবৈধ ব্যবসা রয়েছে। তাছাড়া ডিভোর্স দিচ্ছি অন্য কোনো কারণে নয়, কার্লোসের যৌন অক্ষমতার কারণে। ‘

ঠিক বুঝলাম না। একটু পরিস্কার করে বলবেন কী। এবার রিমা বলেন, ‘কার্লোস যৌন সঙ্গমে অক্ষম। তাই যৌনশক্তি বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন ওষুধ ও ইয়াবা সেবন করতো। মাঝে মাঝে এসব করে আমার সঙ্গে খারাপ আচরণও করতো। ওর বাসায় এসব ওষুধও পাওয়া গেছে ওই ঘটনায়র সময়ে। মূলত যৌন অক্ষমতার কারণেই আমি কার্লোসের কাছ থেকে আলাদা হয়ে গিয়েছি। ‘

একুশে টিভির ‘মুক্ত খবরে’র উপস্থাপিকা ছিলেন সাবিনা রিমা। এরপর ২০১২ সালে লাক্স-চ্যানেল আই সুপার স্টার প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। বিজয়ী হওয়ার পর রিমা একটি টেলিকম কোম্পানির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হয়ে কাজ করছেন। ‘ছেলেটি আবোল তাবোল মেয়েটি পাগল পাগল’ নামে একটি ছবিতে দেখা গিয়েছিল তাকে। বর্তমানে দীপ্ত টিভির দুইটি ধারাবাহিক নাটকে তিনি অভিনয় করছেন।

এদিকে, যোগাযোগ করা হয় কার্লোসের পরিবারের সঙ্গে। তারাও এ বিয়ের সত্যতা স্বীকার করেছেন। বলেছেন, ‘পরিবারের অসম্মতিতে এ বিয়েটা হয়। কিন্তু বিয়ের পর বাধ্য হয়ে সাবিনাকে ঘরে স্থান দিই। ‘ নিজের ছেলে মাদকাসক্ত ও উচ্চৃঙ্খল বলেও দাবি করেন কার্লোসের বাবা আলহাজ্ব আবুল হোসেন। কার্লোসের কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে তিনি গত ১৫ মে (ঘটনার দেড় মাস পূর্বে) শাহবাগ থানায় তার বিরুদ্ধে জিডি (যার নং ৯৫৯) করেছিলেন। সেখানে তিনি এটাও লেখেন, সালেহ ওরফে কার্লোস একজন মাদকাসক্ত। এর থেকে ফেরাতে তারা ইতিপূর্বে কার্লোসকে খিলক্ষেতের বিকন মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ১৩ দিন ভর্তি রাখেন।

মূলত অবৈধ মুদ্রা, হুন্ডি ও মাদক ব্যবসা, অসামাজিক কর্মকাণ্ডসহ অন্ধকার জগতের ডন ছিলেন সালেহ আহমেদ ওরফে কার্লোস। অন্ধকার জগতে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে তিনি বদলে যান। রাতারাতি বনে যান কোটিপতি। দামি দামি গাড়ি হাঁকিয়ে অবৈধ কর্মকাণ্ড নির্বিঘ্নে করতেন। ব্যবহার করতেন জাতীয় সংসদের মনোগ্রামসংবলিত স্টিকার। অঢেল টাকার সুবাদে কার্লোসের বিভিন্ন পার্টিতে যোগ দিতেন শোবিজ জগতের নামিদামি মডেল ও অভিনেত্রীরা। এদের নিয়ে দেশ-বিদেশে ঘুরতেন। উপভোগ করতেন। গৃহকর্মীকে নির্যাতনের ঘটনায় গত শুক্রবার কার্লোসকে পরীবাগের ফ্ল্যাট থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে এক দিনের রিমান্ডে আনা হয়েছিল। মঙ্গলবার তিনি ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে কার্লোস তার অন্ধকার জগতের নানা চমকপ্রদ তথ্য জানান।

সূত্র বলছে, ঢাকার পরিচিত মহলে তিনি নিজেকে সামুদ্রিক পণ্য ও কোমল পানীয়র ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিতেন। বিদেশিরা তাকে চেনেন ঢাকার ইয়াবা ডন হিসেবে। কিন্তু এক গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনা তার সবকিছু ওলটপালট করে দেয়। খুবই মর্মান্তিক ও স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে। ফলে তার শেষ রক্ষা হয়নি। ৩০ জুন গ্রেফতার হন কার্লোস। এর পরই বেরিয়ে আসতে শুরু করে অন্ধকার জগতের নানা কাহিনী। কয়েক দিন আগে রেইন ট্রি হোটেলের আলোচিত ধর্ষণ মামলাকে কেন্দ্র করে নড়েচড়ে ওঠে গোটা মিডিয়াপাড়া। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই ইয়াবা ডন কার্লোসের নতুন অধ্যায় বের হতে শুরু করেছে।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

বার্তা কক্ষ মেইল:

news.crimewatchbd24@gmail.com

বার্তা কক্ষ মুঠোফোন:

+৮৮ ০১৯ ২০০ ৯৯২৮৮

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত "ক্রাইম ওয়াচ"

Design & Devaloped BY Popular-IT.Com