বুধবার, ৩রা কার্তিক, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ : ১৮ই অক্টোবর, ২০১৭ ইং

বিয়ে করেছেন ভাতিজা তালাক দিবেন চাচা!

এইচ এম অাতিক ইকবাল, স্ট্যাফরিপোর্টার

শরীয়তপুরে যৌতুকের টাকা না পেয়ে স্ত্রীর সাথে প্রতারনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অাজিজ অাকবর মাদবর-(২৭) নামে প্রবাসী ও তার চাচার বিরুদ্ধে “১৯৮০ সনের যৌতুক নিরোধ অাইনের ৪ ধারায়” অভিযোগ দায়ের করে ন্যায় বিচার দাবি করেন শ্বশুরালয় হতে তাড়িয়ে দেওয়া মুনিরা-(১৯) নামে এক গৃহবধু।

গতকাল ০৯ অক্টোবর ২০১৭ ইং তারিখে শরিয়তপুর চীফজুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট অামলী অাদালতে বিজ্ঞ উকিল মারফত উক্ত গৃহবধূ নিজে উপস্থিত থেকে স্বামী অাজিজ অাকবর ও, চাচাশ্বশুর ছায়েদ মমাদবরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করলে তাদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ গ্রহন করে অাদালত ।

মামলা সূত্রে জানতে পারি, উপরোক্ত মামলায় অভিযুক্ত ১নং অাসামী বাদীর স্বামী ইতালী প্রবাসী অাজিজ অাকবর (২৭) নড়িয়া উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের কেদারপুর গ্রামের অালি অাকবর মাদবরের পুত্র, মামলার ২নং অাসামী বাদীর অাপন চাচা শ্বশুর ছায়েদ মাদবর, মৃত অাইয়ুব অালি মাদবরের পুত্র ।

বাদী ও তার পরিবারসূত্র জানায়, রাজধানী ঢাকায় একটি স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছিল মুনিরা-১৯( ছদ্যনাম নাম ব্যবহৃত)। পন্য পরিবহন ব্যবসার মাধ্যমে পিতা রহিম বেপারী ও মা রোকসানা বেগম মোটামুটি ভালোভাবেই চলছিলেন।
গত বছর ২০১৬ইং জানুয়ারীতে মায়ের সাথে নানা বাড়ি নড়িয়া উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নে পাঁচগাও গ্রামে বেড়াতে যায়। স্বজনের মাধ্যমে মুনিরা-১৯(ছদ্যনাম) কে ঐ বাড়িতে উদ্দেশ্য গোপন রেখে প্রবাসী অাজিজ অাকবরের(২৭) ছোট বোন ঝুমুর (২৫) ও চাচা ছায়েদ মাদবর। মুনিরা(ছদ্য নাম) কে দেখার পর হতে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে মরিয়া হয়ে ইতালি প্রবাসী অাজিজ অাকবরের বোন ঝুমুর ও চাচা ছায়েদ মাদবর। কিন্তু মেয়েকে এতো তারাতারি বিয়ে দিবে না মুনিরার(ছদ্যনাম) মা। প্রবাসী অাজিজ অাকবরের বোন ও চাচা তাদের স্বজনদের মাধ্যমে বিয়ের পর পড়াশোনা করাবে এমন অাশ্বাস দিয়ে নানা প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় তিন মাস চেষ্টার পর অাত্বীয় স্বজনদের অনুরোধে রাজি করান মুনিরার(ছদ্যনাম) মা-বাবা কে। তারা ভেবেছিল মেয়ে সুখী হবে, এদের যা অাগ্রহ তা দেখে মনে হয়েছিল সারাজীবন সুখেই থাকবে মুনিরা(ছদ্যনাম)।

প্রবাসী অাজিজ অাকবর ইতালি হতে ১০-১০-২০১৬ তারিখে তার দেশে অাসেন। তার পিতা-মাতা ইতালী ছিলেন তখন, তাই পিতামাতার নির্দেশেই বোন ঝুমুর কে নিয়ে তার অাপন চাচা ছায়েদ মাদবর বিয়ের সমস্ত দ্বায়িত্ব নেন। পরদিন ১১-১০-২০১৬ ইং তারিখ মুনিরা-১৯(ছদ্যনাম) এর সাথে মুসলিম বিবাহ অাইন অনুযায়ী উভয়পক্ষের অভিবাবক ও স্বজনদের উপস্থিতিতেই কাবিন রেজিস্ট্রি করে প্রবাসী অাজিজ অাকবরের বিয়ে হয়।

প্রবাসী অাজিজ বিয়ের কিছু দিন পর নিজের অাইফোন বিক্রির টাকা পয়সা দিয়ে নাকি তার কিছু ব্যাক্তিগত দেনা শোধ করে এমন টা জানিয়ে স্ত্রীর নিকট বলেন, অামার ফোনটাতো বিক্রি করেছি কিন্ত অামার বাবা যদি আমার   হাতে ফোন না দেখে, তাহলে জীবনে অামাকে অার কিছুই দিবে না। স্ত্রীকে দিয়ে স্ত্রী মুনিরার ইতালী প্রবাসী মামা বাদলের নিকট হতে নতুন একটা অাইফোন-6+ কেনার জন্য ৯৭হাজার টাকা অানিয়ে সে টাকা ও খরচ করে ফেলে। দেনমোহর বাবদ পরিশোধ করা স্ত্রীকে দেয়া স্বর্নালংকার হতে শুধু ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকার অলংকার রেখে বাকি সমস্ত স্বর্নালংকার টাকার প্রয়োজনে বিক্রি করে দিয়ে বলেন, কিছুদিন পরে অাবার কিনে দেবে তারা।

।ঢাকায় নিজের নামে জমি কেনার কথা জানিয়ে স্ত্রী মুনিরার বাবার কাছে ৫ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করে মুনিরার (ছদ্যনাম) স্বামী অাজিজ।
মুনিরার পিতা টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে শ্বশুর বাড়িতে শুরু হয় মানুষিক নির্যাতন। চাচা-শ্বশুর ছায়েদ মাদবর মুনিরার স্বামীর সামনেই বলে এতোদিন লাগে টাকা অানতে?তোমার বাবার বাড়ি যাও, গিয়ে বলো ৫ লাখ টাকা দিলে অামরা তোমাকে রাখবো না। স্বামী অাজিজ তখন নিজের চাচার কথার বিরোধিতা করেনি।
বাবা-মা কে জানালে পরদিন ০৮-০১-২০১৭ইং তারিখ খবর পেয়ে মুনিরার শ্বশুরবাড়ীতে যায়, তারা শুধু মেয়ের জামাইকে বোঝান বিয়ের পর হতে তোমাদের টাকার সমস্যা শুনেছি, সেটা হতেই পারে, সবসময় তো অার হাতে টাকা থাকেনা,ধৈর্য ধরো সব ঠিক হয়ে যাবে। মেয়ের জামাই অাজিজ মাদবর শ্বশুর কে বলেন অাপনি এতোকথা বইলেন না, এর অশ্লীল গালমন্দ করতে থাকে, মেয়ের চাচা- শ্বশুর ছায়েদ মাদবর তার ভাতিজাকে বলেন, তোর শ্বশুর শ্বাশুরীকে তাদের মেয়ে কে নিয়ে বাড়ি থেকে এখনই চলে যেতে বলে। না হলে অপমান করে তাড়াবো। মুনিরা(ছদ্যনাম)কে নিয়ে মা-বাবা একই ইউনিয়নে মুনিরার নানা বাড়িতে উঠে। মেয়ের শ্বশুর অালী অাকবর মাদবর তখন দেশেই ছিলেন, মুনিররা(ছদ্যনাম) বাবা বসরবার সমাধানের চেষ্টার জন্য অনুরোধ করেছিলেন তাকে কিন্তু সে নিরবতার মাঝে সমাধানে বসতে রাজি হয়েও হঠাৎ না জানিয়ে অাবার ইতালি চলে যান। ১০-০১-২০১৭ তারিখে চাচা শ্বশুর ছায়েদ মাদবর মোবাইল ফোনে মুনিরা(ছদ্যনাম) কে জানান, তার স্বামী অাজিজ অাকবর ইতালী চলে গেছে, দুই দিনের মধ্যে তার দবী করা টাকস নিয়ে অাসতে না পারলে তোমাকে সে তালাক দিবে।

গত ০৭-০৮-২০১৭ তারিখে স্বাক্ষর করে একটি কাগজে ইতালি হতে তালাক নোটিশ পাঠিয়ে চাচা শ্বশুরের মাধ্যমে তালাক দাবী করেন। ওই কাগজটি ভূয়া বলে মনে করেন মুনিরার পরিবার। কম্পিউটারে টাইপ করে পাঠিয়েছে অাজিজ অাকবর তা দাবী করে বলেন, পাঠিয়েছেন তার “উকিল নোটিশ”, নেই কোন দপ্তরের সিল, নেই কারো স্বাক্ষর, ভূয়া কাগজ টা দেখিয়ে বলে, ঐ কাগজের শেষ অংশে অাবার লেখা অাছে ‘অাবেদন”!
প্রবাসী অাজিজ মাদবরের স্ত্রী কে তালাকের সমস্ত ক্ষমতা অর্পন করেছেন চাচা ছায়েদ মাদবরের নিকট।

ওই ভূয়া কাগজ দেখিয়েই চাচা ছায়েদ মাদবর মুনিরা(ছদ্যনাম) পরিবার কে বলছে, তালাক হয়ে গেছে মুনিরা-১৯(ছদ্যনাম)র, এখন অার এ বাড়িতে কোন যোগাযোগের যেন চেষ্টা না করে তারা। তালাকনামা রেজিষ্ট্রি করে সময়-সূযোগে পাঠিয়ে দিবে চাচাশ্বশুর, সে অধিকারও নাকি তার বৈধ।

একাধিক অাইনজীবির সাথে ওই তালাক নামা দেখালে, তারা ওই তালাকনামা একটি ভূয়া কাগজ সেটাই জানালে। ওই কাগজে বিয়ের অাইন অনুযায়ী তালাক হয়নি এমনটাই বলেন সব অাইনজীবিগন।

তালাকের কাগজ নকল করে প্রবাসী স্বামী অাজিজ অাকবর নিজে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছে।
“মুনিরার দাবী এভাবে জীবন নষ্টের খেলা বন্ধ হোক। হয়তো অার সংসার ফিরে পাবো না, তবে স্বামী অাজিজ অাকবর ও তার চাচা ছায়েদ মাদবরদের অামার সাথে করা প্ররতারনার সঠিক বিচার দেখতে চাই, না হলে হয়তো অারো জীবন নষ্ট হয়ে যাবে অামার মতোন। এদের শাস্তী দেখে যেন অার কেউ সাহস না পায়।

মামলার ১নং অাসামী অাজিজ অাকবর ও ২নং অাসামী চাচা ছায়েদ মাদবরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তী দাবী করেন প্রতারনার শিকার মুনিরা(ছদ্যনাম)’র পরিবার। মুনিরার মা বলেন, অামার মেয়ের জীবন টা এভাবে নষ্ট করার অধিকার কে দিয়েছে ওদের?
কেমন চুপচাপ হয়ে গেছে মেয়েটা, অাদালতে যাওয়ার অাগে বলে, মা দেখি বিচার পাই নাকি, যদি অাইনের বিচার না পাই, তাহলে নিজেকে নিয়ে অনেক কিছু ভাবতে হবে। মেয়ের কথাটা ভয় লাগার মতোই, প্রতি মূহুর্ত চিন্তায় অাছি।

প্রতারক ভন্ড অাজিজ অাকবরের বিচার হউক মামলায় পাসপোর্ট নাম্বার অাদালতকে দেয়া হয়েছে, সংসার ভাঙ্গার পেছনে ২নং অাসামী চাচা ছায়েদ মাদবর কে অাটক করতে দাবী জানা মুনিরা(ছদ্যনাম)’র স্বজনরা।
(রুপক নাম হিসেবে মু্নিরা নামটি ব্যবহার করা হয়েছে, মেয়েটির ভবিষ্যত সামাজিক অবস্থান রক্ষায় অাসল নাম ঠিকানা গোপন রাখা হইলো)

বার্তা কক্ষ মেইল:

news.crimewatchbd24@gmail.com

বার্তা কক্ষ মুঠোফোন:

+৮৮ ০১৯ ২০০ ৯৯২৮৮

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত "ক্রাইম ওয়াচ"

Design & Devaloped BY Popular-IT.Com