সোমবার, ১০ই বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ : ২৩শে এপ্রিল, ২০১৮ ইং

শিশুর আঙ্গুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় যুবলীগনেতা ও তার ভায়ের বিরোদ্ধে মামলা

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি, ক্রাইম ওয়াচ 

হাওরের বাঁেধ উঠায় সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় ৫বছরের শিশু ইয়ামিন মিয়ার ডান হাতের ৩টি আঙ্গুল কেটে দিয়েছে যুবলীগ নেতা ও ২৮নং পিআইসির সভাপতি আদুদ। এঘটনায় আদুদ ও তার সহোদর আলম মিয়াকে আসামী করে সোমবার রাতে ১১টায় ইয়ামিন মিয়ার বাবা শাহানুর মিয়া বাদী হয়ে তাহিরপুর থানায় মামলা দায়ের করেছে। মামলা নং ১৪- তারিখ-১৯,০৩,১৮। এদিকে,এই বর্বরচিত ন্যাক্ষার জনক ঘটনাটিকে ও যুবলীগ নেতাকে বাচাঁতা গোপনে আপোষে মিমাংষা করার চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে দক্ষিন শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যার বিশ্বজিৎ সরকারে বিরোদ্ধে। তিনি একাধিবার অদুদ সহ একাধিক ব্যাক্তির সাথে ফোনে কথা বলে ঘটনাটি গোপনে আপোষ মিমাংসা করার চেষ্টা করেন বলে জানাযায়।

 

তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নন্দন কান্তি ধর এঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান,পুলিশ এঘটনায় আব্দুল অদুদ মিয়ার ছোট ভাই আলম মিয়া (৩০)কে রবিবার রাতে আটক করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে সুনামগঞ্জ জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। ঐ পিআইসি প্রলাতক থাকায় থাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছে না। গ্রেফতার করার সর্বোচ্ছ চেষ্টা করছি। তার বিষয়ে বার বার খোঁজ নিচ্ছেন মাননীয় মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি,পুলিশ প্রধান ও ডিআইজি মহোদয়। গোপনে আপোষে মিমাংষা করার চেষ্টা করেন দক্ষিন শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যার বিশ্বজিৎ সরকার। তিনি একাধিবার অদুদের সাথে ফোনে কথা বলে গোপনে মিমাংসা করার জন্য তাকে অনুরোধ করেন।
এব্যাপারে চেয়ারম্যার বিশ্বজিৎ সরকারের সাথে ফোনে একাধিক বার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

 

যুবলীগ নেতা আব্দুল অদুদের বর্বরতার শিকার হবার এই ঘটনার পর পর বিভিন্ন গনমাধ্যমে খবরটি জোরালো ভাবে প্রকাশের পর সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে রবিবার রাতে ছুটে যান এবং শিশুর চিকিৎসার খোজঁ খবর নেন এবং ইয়ামিন মিয়ার চিকিৎসার সকল ব্যায় ভার নিয়েছেন সুনামগঞ্জ জেলার সুযোগ পুলিশ সুপার বরকত উল্লাহ খান। তিনি তাকে ও তার মা,বাবাসহ পরিবারের সবাইকে সান্তানা দিয়ে বলেন,ইয়ামিন মিয়ার চিকিৎসার শেষ না হওয়া পর্যন্ত সকল খরচ বহন করবেন। তখন তিনি শিশুটির মা দিলরাজ বেগমের হাতে নগদ ২০হাজার টাকা ও নতুন কাপড় ও ফল তুলেদেন।

 

এসময় তিনি বলেন,আমি সহ আমার পুলিশ বাহিনী খুবেই মর্মাহত এই ঘটনা শুনে। তিনি বলেন,আব্দুল অদুদ সে যত বড় ক্ষমতাশালী হউক যে দলেই করুক না কেন তাকে এই নির্মম বর্বরতার শাস্তি পেতে হবে। তাকে খুব দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের হাতে সোপর্দ করা হবে। কোন ছাড় পাবে না।

 

এছাড়াও রবিবার রাতে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক সাবিরুল ইসলামসহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাগন সহ ইয়ামিন মিয়াকে দেখতে যান। এবং তার সার্বিক বিষয়ে খোজঁ খরব নেন। এদিকে,সুনামগঞ্জ ১আসনের এমপি ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন শিশু ইয়ামিন মিয়ার বাড়ি সোলাইমাননপুর গিয়ে তার স্বজনদের সান্তনা দেন এবং নগত ১০হাজার টাকা হাতে তুলে দেন।

 

ইয়ামিন মিয়ার পিতা শাহানুর জানান,বাঁেধ ক্ষতি হলে আমার কাছে বিচার দিত। আর এমন কি ক্ষতি হয়েছে থাকে এভাবে আঘাত করতে হবে। আমার ছেলের হাতের ৩টি আঙ্গুল কেটে দিয়েছে অদুদ। আমার ছেলে এখন লেখা পড়া করবে কি করে। আমি অদুদের বিরোদ্ধে মামলা করেছি আইনেই মাধ্যমেই তার কঠিন শাস্থি চাই।

 

উল্লেখ্য,সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় গত শনিবার(১৭মার্চ)বিকালে ৫বছরের শিশু ইয়ামিন মিয়া নিজেরদের গুরুকে ঘাস খাওয়ানোর জন্য ঘাস কাটতে মহালিয়া হাওরের ময়না খালি বাধেঁর উপর দিয়ে হেটেঁ যাচ্ছিল হাওরে। এমন সময় হঠ্যাৎ করেই সে বাধেঁর উপর থেকে গড়িয়ে বাঁেধর নিছে পড়ে যায়। এতে নির্মানাধীন বাঁেধর ড্রেসিং করা কাজে সামন্য ক্ষতি হয়।

 

এসময় সাবেক যুবলীগ নেতা ও মহালিয়া বাধেঁর বাঁেধর পিআইসি (নং ২৮) সভাপতি অদুদ মিয়া বিষয়টি দেখতে পেয়ে ইয়ামিন মিয়ার কাছে গিয়ে মারধর করে এক প্রর্যায়ে হাতে থাকা ঘাস কাটার কাচিঁ কেড়ে নিয়ে হাতের ৩টি আঙ্গুল কেটে দেয়। গুরুত্বর আহত অবস্থায় ইয়ামিন মিয়াকে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেয়। সন্ধ্যার পরে আরো উন্নত চিকিৎসার জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে তাকে পাঠানো হয়।

 

আব্দুল অদুদ দক্ষিন শ্রীপুর ইউনিয়নের সুলেমানপুর গ্রামের জমির উদ্দিনের ছেলে। আহত শিশু একেই গ্রামের শাহানুর মিয়ার ছেলে ও সুলেমানপুর শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার ১ম শ্রেনীর ছাত্র। এঘটনার জানাজানি হলে জেলা ও উপজেলায় ব্যাপক তুলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। গুরুত্বর আহত ইয়ামিন মিয়া সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত "ক্রাইম ওয়াচ"