সোমবার, ১০ই বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ : ২৩শে এপ্রিল, ২০১৮ ইং

প্রধানমন্ত্রীর ওপর আস্থা রাখুন, কোটা পদ্ধতি নিয়ে বিভ্রান্তি পরিহার করুন-তথ্যমন্ত্রী


নাশকতা-অন্তর্ঘাত শিক্ষার্থীদের কাজ নয়। প্রধানমন্ত্রীর ওপর আস্থা রাখুন, কোটা পদ্ধতি নিয়ে বিভ্রান্তি পরিহার করার আহবান জানান তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। মন্ত্রী আজ তথ্যমন্ত্রীর দপ্তরে  এক বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

 

 

মন্রী বলেন, কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলনের মধ্যে সুপরিকল্পিতভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে গভীর রাতে হামলা, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, ছাত্র-পুলিশ সংঘর্ষে ছাত্রছাত্রী আহত হওয়া, সড়ক-মহাসড়ক অবরোধে জনদুর্ভোগসহ অনাকাংখিত দুঃখজনক সব ঘটনায় আমরা অত্যন্ত ব্যথিত, মর্মাহত একই সাথে উদ্বিগ্ন। অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আপনাদের সামনে কথা বলছি। আপনারা কষ্ট করে আমাদের কথা শোনার জন্য এসেছেন এজন্য আপনাদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আমরা আশা করি, আমাদের বক্তব্য আপনাদের মাধ্যমে গণমাধ্যমে সঠিকভাবে প্রকাশিত ও প্রচারিত হলে কোটা পদ্ধতি নিয়ে সকল বিভ্রান্তি ও প্রশ্নের অবসান ঘটবে, কোটা নিয়ে ভবিষ্যতে অনাকাংখিত ঘটনা এড়ানো যাবে এবং ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলনের মধ্যে নাশকতাকারী অন্তর্ঘাতের শক্তির ঘোলাজলে মাছ শিকার করে শিক্ষাঙ্গণসহ দেশে অশান্তি ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপপ্রয়াসের সুযোগ কমে যাবে। সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের বক্তব্য খুবই সুনির্দিষ্টও সুস্পষ্ট।

 

 

 

 

তিনি বলেন, কোটা পদ্ধতি নিয়ে বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ বা অবকাশ নাই।
কোটা পদ্ধতি স্থায়ী বা চিরস্থায়ী কোনো বন্দোবস্তু না। কোটা পদ্ধতি অপরিবর্তনীয়ও না। সময়ের প্রয়োজনে কোটা পদ্ধতির প্রয়োগ পরিবর্তন হয়েছে। কোটা পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, মূল্যায়ন, পুণ:মূল্যায়ন, সংস্কার হয়েছে, ভবিষ্যতেও হতেই পারে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যেই আবারও নতুন করে কোটা পদ্ধতি পরীক্ষা-নিরীক্ষার নির্দেশ প্রদান করেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সরকারের পক্ষ থেকে মাননীয় সড়ক ও সেতুমন্ত্রী জনাব ওবায়দুল কাদের কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের সাথে বসে খোলামেলা আলোচনা করেছেন, তাদের দাবি ও বক্তব্য শুনেছেন।

 

 

 

 

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের কোটা পদ্ধতি চালু করেনি। বরং শেখ হাসিনার সরকার কোটা পদ্ধতি প্রয়োগের বিষয়টি সুস্পষ্টকরণ ও যৌক্তিকিকরণের পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে সর্বশেষ গত ৫ এপ্রিল ২০১৮ তারিখে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে কোটা পদ্ধতির অনেক সংস্কার সাধিত হয়েছে। সর্বশেষ গত ৫ এপ্রিল ২০১৮ তারিখে জারিকৃত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী-“সকল সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটার কোনো পদ যোগ্য প্রার্থীর অভাবে পূরণ করা সম্ভব না হলে সে সকল পদ মেধা তালিকার শীর্ষে অবস্থানকারী প্রার্থীদের মধ্য থেকে পূরণ করিতে হইবে”-মর্মে ৬ মার্চ ২০১৮ তারিখে জারিকৃত সরকারি প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনা আবারও সুনির্দিষ্টভাবে ঘোষণা করা হয়েছে।

 

 

 

 

তিনি বলেন, কোটা পদ্ধতি প্রয়োগে সরকারের এই সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা ও অবস্থানের প্রতিফলন বেশ আগ থেকেই ঘটতে শুরু করে। তা সাম্প্রতিককালের কয়েকটি বিসিএস পরীক্ষার ফলাফলে তা দেখা যায়।

৩৩তম বিসিএস পরীক্ষার মেধা কোটায় নিয়োগ ৭৭.৪০% ভাগ, ৩৫তম বিসিএস পরীক্ষায় মেধা কোটায় নিয়োগ ৬৭.৪৯% ভাগ, ৩৬তম বিসিএস পরীক্ষায় মেধা কোটায় ৭০.৩৮% ভাগ নিয়োগ লাভ করেছেন। এ ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায় মেধা কোটা ৪৫% ভাগ হলেও বাস্তবে মেধা কোটায় গড় নিয়োগ লাভ ৭০% ভাগের বেশি। তাই বর্তমানে কোটা পদ্ধতি অনেকটা নামেই বাস্তবে অনেকটাই গালভরা বুলিতে পরিণত হয়েছে। গড়ে মেধার ভিত্তিতে ৭০% ভাগ নিয়োগই মেধার জয়ে পরিণত হয়েছে।

 

 

 

 

মন্ত্রী বলেন, আমি আগেই বলেছি, কোটা পদ্ধতি বর্তমান সরকার চালু করেনি। ১৯৭২ সালে সদ্য স্বাধীন যুদ্ধ বিধ্যস্থ দেশে সংবিধানের অনুচ্ছেদ নং ২৮(৪) অনুযায়ী “নারী বা শিশুদের অনুকূলে কিংবা নাগরিকদের যে কোন অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান প্রণয়ন হইতে এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করিবে না।” অনুচ্ছেদ নং ২৯(৩) অনুযায়ী “এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই (ক) নাগরিকদের যে কোন অনগ্রসর অংশ যাহাতে প্রজাতন্ত্রের কর্মে উপযুক্ত প্রতিনিধিত্ব লাভ করিতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যে তাঁহাদের অনুকূলে বিশেষ বিধান প্রণয়ন করা হইতে,
(খ) কোন ধর্মীয় বা উপসম্প্রদায়গত প্রতিষ্ঠানে উক্ত ধর্মাবলম্বী বা উপসম্প্রদায়ভুক্ত ব্যক্তিদের জন্য নিয়োগ সংরক্ষণের বিধান সংবলিত যে কোন আইন কার্যকর করা হইতে,
(গ) যে শ্রেণির কর্মের বিশেষ প্রকৃতির জন্য তাহা নারী বা পুরুষের পক্ষে অনুপযোগী বিবেচিত হয়, সেইরুপ যে কোন শ্রেণির নিয়োগ বা পদ যথাক্রমে পুরুষ বা নারীর জন্য সংরক্ষণ করা হইতে রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করিবে না।” সংবিধানের এই নির্দেশনা থেকেই কোটা পদ্ধতি চালু হয়। তখন ছিল ঃ

মেধা কোটা : ২০%
মুক্তিযোদ্ধা কোটা : ৩০%
নির্যাতিত মহিলা কোটা : ১০%
জেলা/বিভাগ কোটা : ৪০%
১০০%

 

 

 

 

 

মন্ত্রী আরও বলেন, ১৯৯৭ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হয়েই কোটা পদ্ধতির গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার করেন। ১৯৯৭ সালের ১৭ মার্চ তারিখের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী কোটার বন্টনের অবস্থা দাঁড়ায়ঃ

(১) মেধা কোটা (জেলা কোটা বহির্ভূত): ১ম ও ২য় শ্রেণির পদ ৪৫%,
(২) এতিমখানা নিবাসী ও শারীরিক প্রতিবন্ধী (জেলা কোটা বহির্ভূত): ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির পদ ১০%
(৩) জেলা কোটা (জনসংখ্যার ভিত্তিত জেলা ওয়ারী বন্টন):
(ক) মুক্তিযোদ্ধা এবং উপযুক্ত মুক্তিযোদ্ধা পাওয়া না গেলে মুক্তিযোদ্ধা/শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র কন্যা: ১ম ও ২য় শ্রেণির পদ ৩০%, ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির পদ ৩০%
(খ) মহিলা কোটা: ১ম ও ২য় শ্রেণির পদ ১০%, ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির পদ ১৫%
(গ) ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কোটা: ১ম ও ২য় শ্রেণির পদ ০৫%, ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির পদ ০৫%
(ঘ) আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা কোটা: ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির পদ ১০%
(ঙ) অবশিষ্ট (জেলার সাধারণ প্রার্থীদের জন্য: ১ম ও ২য় শ্রেণির পদ ১০%, ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির পদ ৩০%
মোট= ১০০%

১৯৯৭ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা মেধা উন্নীত করে ৪৫% ভাগ করেন। আর বর্তমানে বাস্তবে মেধা কোটায় নিয়োগ গড় ৭০% ভাগে দাঁড়িয়েছে।

 

 

 

 

 

তথ্যমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়েই কি মূল আপত্তি ? কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীরা কোটা পদ্ধতি সংস্কারের সুনির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাব না দিলেও বিভিন্ন ব্যক্তি মহল পত্র-পত্রিকা, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে সকল বক্তব্য দিচ্ছেন তা দেখে মনে হয়, মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়েই তাদের আপত্তি। মুক্তিযোদ্ধা কোটা তাদের গায়ে জ্বালা ধরিয়েছে। তারা কোটা পদ্ধতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের এমন ভাষায় অসম্মান ও হেয়প্রতিপন্ন করে চলেছেন যে, মুক্তিযোদ্ধারা মুক্তিযুদ্ধ করে অন্যায় করে ফেলেছেন। দেশের সব নাগরিকের রাষ্ট্রের কাছে চাওয়া-পাওয়া থাকলেও মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রের কাছে কোনো চাওয়া পাওয়া থাকতে পারবে না। ঐ সকল ব্যক্তি মহল শুধু মুক্তিযোদ্ধাদেরই নয়, মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়েও চরম অবমাননাকর কটুক্তি করে চলেছেন।

 

 

 

 

 

তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের ৯০% ভাগের বেশিই অতি সাধারণ মানুষ। গ্রামের কৃষক বা কৃষক পরিবারের সন্তান। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে গিয়ে তাদের প্রায় সবাই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। আর্থিকভাবে আরও প্রান্তিক হয়েছেন। পিছিয়ে পড়েছেন। এর চেয়েও বড় কথা তারা দেশের জন্য সর্বোচ্চ দেশপ্রেম প্রদর্শন করেছেন। সেই মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারকে অস্বচ্ছল অনগ্রসর পিছিয়ে পড়া আর্থ-সামাজিক অবস্থান থেকে একটু টেনে তোলার জন্য মুক্তিযোদ্ধা কোটা রাখাটা কি অন্যায় ? অযৌক্তিক ? তারপরও সরকার অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে নির্দেশনা দিয়েছে, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে অপূরিত শুন্য পদগুলি মেধার ভিত্তিতেই পূরণ করা হবে। এবং তা হওয়া শুরু হয়েছেও। আর মুক্তিযোদ্ধা কোটায় যারা নিয়োগ লাভ করছেন, তারা কি মেধার প্রতিযোগিতা সম্পূর্ণটাই পাশ কাটিয়ে এ সুযোগ নিচ্ছেন। তাদেরও মেধার প্রতিযোগিতা ও ন্যূনতম মেধার যোগ্যতা অর্জন করেই চাকুরি পেতে হচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধা কোটাসহ সব কোটার প্রার্থীদের আলাদা পরীক্ষা নয় সবার সাথে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। আমরা তাই মুক্তিযোদ্ধা কোটার বিরোধীতার নামে মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করা এবং মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অসম্মানজনক কথাবার্তা বলা বন্ধ করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।

 

 

 

 

মন্ত্রী বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্যে গভীর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে হামলা-ভাংচুর-অগ্নিসংযোগ, সড়ক-মহাসড়ক অবরোধসহ যে সহিংসতা-নাশকতা-অন্তর্ঘাত হয়েছে তা সাধারণ ছাত্র-চাত্রীদের কাজ বলে আমরা বিশ্বাস করি না। এ সহিংসা-নাশকতা-অন্তর্ঘাত সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের কাজ না। সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে যারা দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করতে চায়, যারা জল ঘোলা করে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে চায় তারাই এসব করেছে।

 

 

 

মন্ত্রী আরও বলেন, আপনারা জানেন, বিডিআর বিদ্রোহের সময় বেগম জিয়া প্রকাশ্যে বিদ্রোহীদের উস্কানি দিয়েছেন। হেফাজতের তান্ডবের সময়ও বেগম জিয়া প্রকাশ্যে তান্ডবের পক্ষে উস্কানি দিয়েছেন। কোটা সংস্কারের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মধ্যে যখন সহিংসতা-নাশকতা-অন্তর্ঘাত শুরু হয় তখনও বিএনপি শান্তির আহ্বান না জানিয়ে প্রকাশ্যে বিবৃতি দিয়ে উস্কানি দিয়েছে। তাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্যে যে নাশকতা-অন্তর্ঘাতের উস্কানি আছে তা বুঝতে অসুবিধা হয় না।

 

 

 

 

 

অথ্যমন্ত্রী বলেন, উস্কানিদাতারা ‘লাশ’ এর গুজব ছড়িয়ে ছাত্রছাত্রীদের সহিংসতার দিকে ঠেলে দিতে চেয়েছিল। উস্কানিদাতারা লাশ চেয়েছিল। লাশ ফেলতে চেয়েছিল। আল্লাহর কাছে হাজার শোকর তাদের ইচ্ছার পুরণ হয়নি। তারা লাশ পায়নি, লাশ ফেলতে পারেনি।

 

 

 

 

মন্ত্রী বলেন, আমরা আশা করি, বুদ্ধিজীবী, সুশীলসমাজের মানুষরা কোটা নিয়ে আলোচনা করবেন। উস্কানি দিবেন না। আর আন্দোলনের মধ্যে যে সহিংসতা-নাশকতা-অন্তর্ঘাত ঢুকিয়ে দেয়া হচ্ছে সে ব্যাপারে মুখ খুলবেন।

 

 

 

 

মন্ত্রী আরও বলেন, আমি আপনাদের মাধ্যমে দেশের ছাত্র সমাজ ও দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বলতে চাই-আমাদের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা খালেদা জিয়ার মত অন্ধ ও বধির না। বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকাকালে বা ক্ষমতার বাইরে থাকাকালেও জনগণের কথা শুনতে পেতেন না, জনগণের দুঃখ, আহাজারি দেখতে পেতেন না। তিনি চোখে ঠুলি, কানে তুলো দিয়ে চলেন। কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সারাক্ষণই জনগণের দিকে তাকিয়ে থাকেন। তিনি জনগণের মনের কথাও শুনতে পান। জনগণের দুঃখে কাঁদেন, জনগণের সুখে হাসেন। এজন্যই আমাদের প্রধানমন্ত্রী কোটা সংস্কার নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলনের মধ্যে এত সহিংকতা-নাশকতা-অন্তর্ঘাত হবার পরও তার পক্ষ থেকে সড়ক ও সেতুমন্ত্রীকে আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের সাথে বসে খোলামেলা কথা বলে তাদের বক্তব্য দাবি শোনার নির্দেশ দিয়েছেন এবং কোটা পদ্ধতি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখারও নির্দেশ দিয়েছেন।

 

 

 

 

 

মন্ত্রী বলেন, সবশেষে বলবো, বাস্তব সত্য হলো, মেধা কোটা ৪৫% হলেও, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপেই বাস্তবে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ ৭০% ভাগে দাঁড়িয়েছে। তাই কোটা পদ্ধতি নিয়ে বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ নেই।

মুক্তিযোদ্ধাসহ সব কোটার প্রার্থীদেরই সবার সাথে প্রতিযোগিতামূলক লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়।

নারী, প্রতিবন্ধী, মুক্তিযোদ্ধাসহ অনগ্রসর, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে টেনে তোলার জন্য কোটা প্রথা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা।

 

 

 

 

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এ রকম পরিস্থিতিতে আমি আমাদের সন্তানতুল্য ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে আহ্বান ও অনুরোধ করবো-
– আপনারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ওপর আস্থা রাখুন।
– আপনারা ধৈর্য্য ধারন ও শান্তি বজায় রাখুন।
– অশান্তি তৈরির পথ পরিহার করুন।
– কারো উস্কানির ফাঁদে পা দিবেন না।
– কোনো গুজবে কান দিবেন না।
– সাধারণ জনগণ জিম্মি হয় বা দুর্ভোগে পতিত হন এমন কর্মসূচি, যেমন সড়ক-মহাসড়ক অবরোধের মত জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী কাজকে কর্মসূচি হিসাবে নিবেন না।
– জননেত্রী শেখ হাসিনা আপনাদেরই প্রধানমন্ত্রী। তিনি আপনাদের প্রতি কোনো অন্যায় বা অবিচার হতে দিবেন না। এবং কোনো অন্যায় বা অবিচার হলে তিনি তার বিচার করবেন, প্রতিকার করবেন।


স্টাফ রিপোর্টার, ক্রাইম ওয়াচ।

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত "ক্রাইম ওয়াচ"