সোমবার, ১০ই বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ : ২৩শে এপ্রিল, ২০১৮ ইং

কিশোরগঞ্জে এনজিও কর্মকর্তার বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার


কিশোরগঞ্জের নিকলীতে সুলতান উদ্দিন (৫২) নামে এক এনজিও (মাল্টিপারপাস) কর্মকর্তা খুন হয়েছেন। রবিবার মাঝরাতে উপজেলার ছাতিরচর বাজারে রংধনু সঞ্চয় ও সমবায় সমিতির কার্যালয় থেকে তাঁর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে এলাকাবাসী। নির্মম হত্যাকান্ডের শিকার সুলতান উদ্দিন  গুরুই পালপাড়া গ্রামের মৃত সাহেব আলীর ছেলে।

 

 

 

জানা গেছে, সুলতান উদ্দিন রংধনু সঞ্চয় ও সমবায় সমিতির পরিচালক ছিলেন। তিনি ছাতিরচর ও গুরুই এলাকায় দুটি অফিস স্থাপন করে তাঁর সংস্থার ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।

 

 

 

রবিবার তিনি চার লাখ টাকা নিয়ে ঋনদানের জন্য ছাতিরচর কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। ঘটনার পর থেকে এ অফিসের ম্যানেজার হিজবুল্লাহকে পাওয়া যাচ্ছে না। হিজবুল্লাহ ছাতিরচর গ্রামের উত্তরপাড়ার মোহাম্মদ আলীর ছেলে। ধারণা করা হচ্ছে, তিনিই সুলতানকে হত্যা করে পালিয়ে গেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লাশের গলায় একটি গামছা পেঁচানো ছিল। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এলাকার চার ব্যক্তিকে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ।

 

 

 

 

পারিবারিক সূত্র বলছে, রবিবার দুপুরে সুলতান চার লাখ টাকা নিয়ে ছাতিরচরের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। সাধারণত তিনি বিকেলে বাড়ি ফিরে যান। বিকেলে বাড়ি না ফিরে যাওয়ায় তাঁর স্ত্রী সুলতানকে ফোন দিলে ফোনটি বন্ধ পান। এর পর তিনি ছাতিরচর অফিসের ম্যানেজার হিজবুল্লাহকে ফোন দেন। হিজবুল্লাহ তাকে জানান, দুপুর ২টার দিকে তিনি সুলতানকে নৌকায় তুলে দিয়েছেন।

 

 

 

 

রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত সুলতান বাড়ি ফিরে না যাওয়ায় তার পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে এবং এলাকার কয়েকজন লোক নিয়ে নিয়ে ছাতিরচর যান, কিন্তু তারা গিয়ে ম্যানেজার হিজবুল্লাহকে আর পাননি। পরে অফিসের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকেন তারা। সেখানে চৌকির নিচে মুখ বাঁধা অবস্থায় একটি বস্তা দেখতে পান। ওই বস্তার মধ্যেই পাওয়া যায় সুলতান উদ্দিনের মরদেহ। এ ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

 

 

 

 

পুলিশের ধারণা, সুলতান উদ্দিনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। রাতে কোনো এক সময় বস্তাবন্দি লাশটি নদীতে ফেলে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল দুর্বৃত্তদের। কিন্তু এ সুযোগ আর পায়নি তারা।

 

 

 

নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে সুলতান উদ্দিনকে। তার টাকাগুলোও পাওয়া যায়নি। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য  কিশোরগঞ্জ জেলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

 

 

 

 

এ ঘটনায় নিহত সুলতান উদ্দিনের বড় ভাইয়ের ছেলে রেজাউল কবির বাদী হয়ে হিজবুল্লাহকে প্রধান আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এতে অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়।

 

 

 

ওসি বলেন, সন্দেহভাজন হিজবুল্লাহকে ধরতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। এ ছাড়া এলাকার কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।


কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি, ক্রাইম ওয়াচ।

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত "ক্রাইম ওয়াচ"