সোমবার, ১০ই বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ : ২৩শে এপ্রিল, ২০১৮ ইং

৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সরকারি পুকুর,দীঘি ও জলাশয় পুন:খনন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ


সাতক্ষীরায় বর্তমানে তীব্র গরমে সাধারন মানুষের জীবনযাত্রা নাবিশ্বাস হয়ে উঠেছে। আর এর সাথে যোগ হয়েছে জেলাব্যাপি সুপেয় পানির সংকট। অনাবৃষ্টির কারণে জেলার পুকুরগুলো প্রায় শুকিয়ে গেছে। সুপেয় পানির অভাবে রান্না থেকে শুরু করে খাওয়া ও গোসল করতে বিপাকে পড়েছে জেলার কয়েক লক্ষ মানুষ।

 

 

 

 

জেলার বিভিন্ন এলাকার যে সকল সরকারী দীঘি ও পুকুরে সারা বছরই পানি থাকে সেগুলি থাকে প্রভাবশালীদের দখলে। ফলে চরম বিপাকে পড়েছে সাধারণ মানুষ। সম্প্রতি সাতক্ষীরায় জেলা পরিষদের মালিকানাধীন প্রভাবশালীদের দখলে রাখা ১৩০টি জলাশয় উদ্ধার করেছে জেলা পরিষদ।

 

 

 

 

এরমধ্যে ৭৩টি জলাশয় খনন, পুন:খনন ও সংস্কার করার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা পরিষদ। ৪৮টি জলাশয়ের টেন্ডার দেওয়ার প্রক্রিয়াও শেষ হয়েছে। ৯টি টেন্ডারের অধীনে ৩০টি জলাশয়ের সংস্কার কাজ চলছে। দুটি জলাশয় প্রভাবশালীদের দখলমুক্ত করতে না পারায় বাকি ২৮টি জলাশয়ের কাজ চলছে। জলাশয়গুলোর কাজ সমাপ্ত হলে লক্ষাধীক মানুষ সুপেয় পানির সুবিধা পাবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

 

 

 

 

 

 

জলাশয়গুলো যুগ যুগ ধরে প্রভাবশালীদের দখলে থাকায় তা উদ্ধার করতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। পুকুরের আয়তন ও গভীরতা পরিবর্তন করে জলাশয়গুলো প্রভাবমুক্ত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

 

 

 

৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সরকারি পুকুর, দীঘি ও জলাশয় পুন:খনন প্রকল্প জেলা পরিষদের উদ্যোগে সাতক্ষীরা জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। এ প্রকল্পে জেলা পরিষদের অধীন ৭৩টি পুকুর ও দীঘি পুন:খনন করা হবে। এতে সুপেয় পানির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বেদখল হয়ে যাওয়া পুকুর ও দীঘি উদ্ধার হবে বলে জানান কর্তৃপক্ষ।

 

 

 

 

সাতক্ষীরা জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় দীর্ঘদিন ধরে দখলে থাকা সুপেয় পানির উৎসগুলো দখলমুক্ত করতে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এরই অংশ হিসেবে জেলা পরিষদের সব পুকুর, দীঘি ও জলাশয় পুন:খনন প্রকল্প ২০১৭-১৮ গ্রহণ করা হয়।

 

 

 

 

 

গত জুলাই থেকে শুরু হওয়া প্রকল্পটির অধীনে সাতক্ষীরা সদর, কলরোয়া, তালা ও দেবহাটায় দুটি করে জলাশয় পুন:খনন করা হবে। এছাড়া কালীগঞ্জে ১১টি, আশাশুনিতে ২৪টি ও শ্যামনগরে ৩১টি পুকুর ও দীঘি পুন:খনন করা হবে। সাতক্ষীরা সদরের ধুলিহর ইউনিয়নের চাঁদপুর মৌজাতে দশমিক ৭৫ একর জমিতে ৫.৬ মিটার গভীরতায় একটি পুকুর খনন চলছে। এছাড়া ফিংড়িতে ১ দশমিক ০৯ আয়তনে ৫.৬ মিটার গভীরতা বিশিষ্ট দুটি পুকুর সংস্কারের কাজ চলছে।

 

 

 

 

 

তালার খেশরাতে ১ দশমিক ১৫ আয়তনে ৫.৯ মিটার গভীরতা এবং ইসলামকাটিতে ১ দশমিক ২ আয়তনে ২.১০ মিটার গভীরতায় দুটি পুকুর খননের কাজ চলছে। কালিগঞ্জের তারালির বাজার গ্রাম, মথেরুশপুরে উজমারি, ধলবাড়িয়ার গান্দুলিয়া, রঘুনাথপুর, ভাড়া শিমলার গোনাটিকাটি, দেয়া, উকশা এবং চাম্পাফুল গ্রামে ১১টি জলাশয়ের কাজ চলছে। দেবহাটার জগন্নাথপুর ও আশাশুনির পাইথালিতে ২টির কাজ চলছে।

 

 

 

 

আশাশুনির শ্রীকলস, গাজীপুর, বুড়িয়া, কোদন্ডা, আনুলিয়া, গদাইপুর, তুষারডাঙ্গা, লাঙ্গলদাড়িয়া, শ্রীধরপুর, রামনগর, শ্রীউলা মাদারবাড়িয়া এবং মহিষকুড় গ্রামে ২৪টি জলাশয়ের কাজ চলছে।

 

 

 

 

শ্রামনগরে ভবানীপুর, পোড়াকাটলা, পরানপুর, ভেটখালি, রমজাননগর, ভৈরবনগর, কাশিমারী, ভেটখালি, মানিকপুর, তারানিপুর, কাটিবরহাল, ঘোলা, হরিনগর, গোদাড়া, বৃড়িগোয়ালিনি, হরিনগর, পরানপুর, গাবুরা, আবাদপুর, ঈশ্বরীপুর, নুরনগর, কাশিমাড়ি, আটুলিয়া, কৈখালি, শ্যামনগর সদরে ৩১টি জলাশয়ের কাজ চলছে।
প্রকল্প অনুযায়ী পুকুরের আয়তন ও গভীরতা অনুযায়ী একটি জলাশয়ের কাজ ঠিক মত হচ্ছে না।

 

 

 

 

 

 

খনন ও সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্প অনুযায়ী জলাশয়ের যে আয়তন দেখানো হয়েছে তা বাস্তবে সাথে কোন মিল নেই। কারণ প্রভাবশালীদের কাছ থেকে দখলকৃত সম্পত্তি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ বছর ধরে সরকারি জমিতে আধাপাকা ও পাকা বাড়ি ঘর করায় বসতিদেরকে উচ্ছেদ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ জানান।

 

 

 

 

 

খনন কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, আমিন এন্ড ব্রাদার্স, এমএম বিল্ডার্স, আরাধনা ইন্টাপ্রাইজ, এমএসএবিটিসিবিবিএল। এদের মধ্যে কয়েক জনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রভাবশালীদের কাছ থেকে তাদের পক্ষে দখল মুক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছ। যতটুকু দখল করা সম্ভব হচ্ছে সে অংশে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে।
সাতক্ষীরা জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আমিনুল ইসলাম জানান, জেলা পরিষদের মালিকানাধীন ১৩০টি পুকুর ও দীঘি রয়েছে।

 

 

 

 

 

 

এরমধ্যে আপাতত ৭৩টি পুন:খনন করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে ২০১৯ সালের জুনে। তিনি আরো বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে জেলার সুপেয় পানির সংকট কিছুটা হলেও কমবে। বিশেষ করে শ্যামনগর, আশাশুনি ও কালীগঞ্জ উপজেলার মানুষ বেশি উপকৃত হবেন। প্রকল্পের অধীনে যতগুলো পুকুর ও দীঘি পুন:খনন হচ্ছে, তার মধ্যে ৬৬টিই এ তিন উপজেলার।

 

 

 

 

 

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে জেলার মানুষের পানির কষ্ট দূর হবে। তাছাড়া দীর্ঘদিন বেদখলে থাকা সরকারি জলাশয়গুলো উদ্ধার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


শেখ আমিনুর হোসেন,সাতক্ষীরা ব্যুরো চীফ।

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত "ক্রাইম ওয়াচ"