আগস্ট ২১, ২০১৮ ১০:০১ পূর্বাহ্ণ

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ শিক্ষার্থী কারাগারে

ডেস্ক রিপোর্ট / ক্রাইম ওয়াচ
নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনের মধ্যে পুলিশের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের দুই মামলায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ ছাত্রকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম সত্যব্রত শিকদার রাজধানীর বাড্ডা ও ভাটারা থানায় দায়ের করা মামলায় আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

কারাগারে যাওয়া আসামিরা হলেন-রিসালাতুন ফেরদৌস, রেদোয়ান আহম্মেদ, রাশেদুল ইসলাম, বায়েজিদ, মুশফিকুর রহমান, ইফতেখার আহম্মেদ, রেজা রিফাত আখলাক, এএইচএম খালিদ রেজা ওরফে তন্ময়, তরিকুল ইসলাম, নূর মোহাম্মদ, সীমান্ত সরকার, ইকতিদার হোসেন, জাহিদুল হক ও হাসান, আজিজুল করিম অন্তর, সামাদ মর্তুজা বিন আহাদ, ফয়েজ আহম্মেদ আদনান, সাবের আহম্মেদ উল্লাস, মেহেদী হাসান, শিহাব শাহরিয়ার, সাখাওয়াত হোসেন নিঝুম ও আমিনুল এহসান বায়েজিদ।

আসামিদের মধ্যে প্রথম ১৪ জন বাড্ডা থানার এবং শেষের ৮ জন ভাটারা থানার মামলার আসামি। আর এরা বেসরকারি ইস্টওয়েস্ট, নর্থসাউথ, সাউথইস্ট ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

বাড্ডা থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জুলহাস মিয়া ও ভাটারা থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই হাসান মাসুদ দুই দিনের রিমান্ড শেষে আসামিদের আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

অপরদিকে দুই আসামি ব্যতিত ২০ জনের পক্ষে তাদের আইনজীবীরা জামিন আবেদন করেন ঢাকা বারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান হাওলাদারসহ কয়েকজন আইনজীবী। আর ওই দুই আসামি রেদোয়ান ও তরিকুলের জামিন শুনানির জন্য রোববার দিন ধার্য করার আবেদন করেন।

২০ আসামির পক্ষে তাদের আইনজীবীরা বলেন, এরা সবাই স্টুডেন্ট হলেও এজাহারে সেটা উল্লেখ করা হয়নি। তাছাড়া তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। আমরা কেউ সমাজের বাইরে নয়, আপনিও (বিচারক) নন। আপনিও জানেন কি হয়েছে।

তারা বলেন, ঘটনার দিন যারা মার খেলো তারাই আসামি হলো। পুলিশ তাদের ৭ দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আর একদিন পরই তাদের আদালতে নিয়ে আসলো পুলিশ। আমরা সবাই ছাত্র ছিলাম। বাংলাদেশের মানুষ সবই জানে। ছাত্রদের কোনো অপরাধ নেই। বিচারকের হাত পা বাঁধা বা ওপরের কোন ওহি না থাকলে যেকোনো শর্তে তাদের জামিন মঞ্জুরের প্রার্থনা করেন তারা।

রাষ্ট্রপক্ষে সংশ্লিষ্ট থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা মো. আবু হানিফ জামিনের বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, আসামিরা সবাই ছাত্র, সবাই কোমলমতি। ছাত্ররা ছাত্রদের মতো চলবে। কিন্তু তারা সবাই সরকার বিরোধি ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। সরকারকে উৎখাত করার জন্য তারা বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করে। ছাত্ররা রাস্তায় আসবে, আন্দোলন করবে। কিন্তু তারা কি ধরনের আন্দোলন করেছে আমরা তা দেখেছি। পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেটসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাদের থামাতে পারেনি। কারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর কিভাবে হামলা করেছে। তারা কি ধরনের ছাত্র?

জামিন পেলে আসামিরা আবারও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে পারে। এজন্য আসামিদের জামিন নামঞ্জুরের প্রার্থনা করেন তিনি।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আর দুই আসামির জামিন শুনানির জন্য রোববার দিন ধার্য করে দেন।

গত মঙ্গলবার ২২ আসামির দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

সূত্র- রাইজিংবিডি ডট কম

Related posts