আগস্ট ২১, ২০১৮ ১০:০১ পূর্বাহ্ণ

স্ট্যাম্পে সই নিয়ে আমাকে ছেড়ে দেওয়া হয়: পারভেজ

রাজধানীর লালমাটিয়ায় থেকে অপহৃত হওয়ার পর পূর্বাচলে উদ্ধার পাওয়া কুমিল্লার তিতাস উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান পারভেজ হোসেন সরকার বলেছেন, তাকে অপহরণের পরই গাড়িতে তুলে চোখ বেঁধে ফেলা হয়েছিল। এরপর কিছু দূর গিয়ে অপহরণকারীরা তার চোখের বাঁধন হালকা করে খুলে দেয়। অস্ত্র ঠেকিয়ে তার হাত দিয়ে সাদা কাগজের দুটি স্ট্যাম্পে সই নেয় তারা। পরে তাকে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরিয়ে রাত ১০টার দিকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, অপহরণের পর আমাকে মারধর করা হয়নি, তবে অজ্ঞান করা হয়েছিল। আমাকে সহযোগিতা করায় আমি প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও দেশের গণমাধ্যমকে ধন্যবাদ জানাই।

শনিবার দুপুরে লালমাটিয়ার সি ব্লকে নিজের বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

পারভেজ বলেন, শুক্রবার জুমার নামাজ শেষ করে বাসায় ফেরার সময় এক লোক এসে আমাকে সালাম দেয়, ঠিক ওই সময় পেছন থেকে আরেকজন এসে ধাক্কা দিয়ে আমাকে গাড়িতে উঠিয়ে নেয়। এরপর মুখে কাপড়ের মতো কিছু একটি ধরে অজ্ঞান করে ফেলে।

তিনি বলেন, জ্ঞান ফেরার পর গাড়ির ভেতরেই দুই সেট তিনশ টাকার খালি স্ট্যাম্পে আমার স্বাক্ষর নেয়। এরপর দীর্ঘক্ষণ গাড়িতে করে ঘুড়িয়ে আনুমানিক রাত ১০টার দিকে রূপগঞ্জ কাঞ্চন ব্রিজের আগে একটি উন্মুক্ত স্থানে আমাকে নামিয়ে দেওয়া হয়।

আপনি কাউকে সন্দেহ করছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে পারভেজ হোসেন সরকার বলেন, আমাকে যেহুতু অজ্ঞান করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সে কারণে কারো চেহারাই চিনতে পারিনি।

কারো সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধের জেরে এমন ঘটনা ঘটে থাকতে পারে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাজনৈতিক সমস্যা থাকতেই পারে। যেহুতু রাজনীতি করি বিরোধ থাকতে পারেই। এটা এখন আমি বলতে পারব না, আমি কাউকে দোষারোপ করতে চাই না। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করবে। কাগজের স্ট্যাম্পে সই করার সময় সামান্য চোখ খুলে সাইন করানো হয়। তারা পাঁচ-ছয় জন ছিল। তাদের সবার হাতে অস্ত্র ছিল। অস্ত্র ছিল, দেখেছি। তারা অস্ত্র ঠেকিয়ে সই নিয়েছে।

এর আগে শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে পারভেজ হোসেন সরকারকে রাজধানীর লালমাটিয়া থেকে অপহরণ করা হয়।

ডেস্ক রিপোর্ট, ক্রাইম ওয়াচ।

Related posts